বগুড়ার আদমদীঘিতে দিনদুপুরে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) শাখা ব্যবস্থাপককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন সংস্থাটির শাখা ব্যবস্থাপক সম্রাট। তাকে উদ্ধার করে দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার সহকর্মী শিবলু মিয়াকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে আদমদীঘি উপজেলার কুন্দগ্রাম ইউনিয়নের বানিয়াগাড়ী দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনাটি দিনের আলোয় জনবহুল এলাকায় সংঘটিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকাশ্য সড়কে অস্ত্রের ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ওই এলাকার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বেডোর আদমদীঘি এলাকার ব্যবস্থাপক আনিসুর রহমান জানান, সোমবার সকালে সংস্থাটির দুপচাঁচিয়া শাখার ব্যবস্থাপক সম্রাট ও কর্মী শিবলু মিয়া কুন্দগ্রাম এলাকার বিভিন্ন সদস্য ও ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে নিয়মিত মাসিক কিস্তির টাকা আদায় করেন।
কিস্তির টাকা সংগ্রহ শেষে তারা একটি ব্যাগে প্রায় ৫ লাখ টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বানিয়াগাড়ী দক্ষিণপাড়া এলাকার সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সিদ্দিক শেখ, ইদ্রিস শেখসহ আরও ২-৩ জন তাদের পথ আটকে দেন। একপর্যায়ে হামলাকারীরা শাখা ব্যবস্থাপক সম্রাটকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এতে তিনি রক্তাক্ত ও জখম হন।
সম্রাটের ওপর হামলা দেখে তার সহকর্মী শিবলু মিয়া তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা তাকেও মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে হামলাকারীরা তাদের কাছে থাকা কিস্তির প্রায় ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার পর আহত সম্রাটকে দ্রুত উদ্ধার করে দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তার আঘাতের ধরন ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকদের বিস্তারিত বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
বেডোর কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং ছিনিয়ে নেওয়া টাকা উদ্ধারের জন্য তিনি বাদী হয়ে থানায় মামলা করবেন।
আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। এনজিও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মামলা করার কথা জানানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দিনদুপুরে সড়কে একজন এনজিও কর্মকর্তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা এবং তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ নতুন করে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে এমন ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে অর্থ সংগ্রহে নিয়োজিত এনজিও কর্মীরা নিয়মিত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ বহন করেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা কতটা রয়েছে এবং এমন ঘটনায় অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে- সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।


