সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি “Caucus of America in National Parliament of Bangladesh” শিরোনামের একটি নথি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই নথিতে কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে একটি নির্বাহী কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এরপর থেকেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।

নথিতে ড. মো. ওসমান ফারুককে চেয়ারম্যান, ড. মো. মাহবুবুর রহমানকে কো-চেয়ারম্যান এবং আরও কয়েকজনকে সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নথিটির সত্যতা, এটি কবে ও কী প্রেক্ষাপটে তৈরি হয়েছে কিংবা এটি কোনো আনুষ্ঠানিক সংসদীয় কাঠামোর অংশ কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

ককাস কী?

ককাস (Caucus) হলো সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট বিষয়, নীতি বা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আইনপ্রণেতাদের একটি সংগঠিত ফোরাম। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংসদে বিভিন্ন ইস্যু ও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক “উন্নয়ন”-এর লক্ষ্যে এ ধরনের ককাস বা ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠিত হয়।

কোনো দেশে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট ককাস গঠনের মাধ্যমে সেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে মার্কিন প্রভাব বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়। এ ধরনের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে চায় এবং সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে “নীতিগত” সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টা করে।

এ ধরনের ককাস দীর্ঘমেয়াদে সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্রনীতি ও কৌশলগত সিদ্ধান্তে মার্কিন স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা সৃষ্টি করে।

বিভিন্ন দেশে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার জন্য আমেরিকা ককাস বা পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠন একটি প্রচলিত কূটনৈতিক চর্চা হলেও মূলত আমেরিকা সেখানে অবাধ খবরদারির রাস্তা অবমুক্ত করে। এগুলোর উদ্দেশ্য, কার্যক্রম ও প্রভাব দেশভেদে ভিন্ন হতে পারে এবং ককাস গঠন থেকেই কোনো দেশকে অন্য দেশের “অনুগত”দের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে স্বার্থ সিদ্ধির পথ সুগম হয়। মোটাদাগে, এটা বাংলাদেশের জন্য এক ঘোরতর অশুভ লক্ষণ।।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version