বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী, স্বাধীন ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সচিবালয়, সশস্ত্র বাহিনী ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘পাকিস্তান মুক্ত’ করার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।

সম্প্রতি দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে বাঁচাতে চাইলে সচিবালয়কে পাকিস্তান মুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে ডিজিএফআইসহ পুরো সেনাবাহিনীকেও পাকিস্তান মুক্ত করতে হবে।” তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

সাখাওয়াত হোসেনের বক্তব্যে মূলত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনো ধরনের বিদেশি প্রভাব, পুরোনো মানসিকতা কিংবা বিশেষ গোষ্ঠীর আনুগত্য থেকে মুক্ত করে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। তাঁর মতে, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রশাসন ও নিরাপত্তা কাঠামোকে অবশ্যই দেশের জনগণের স্বার্থ এবং সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হবে।

রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম কেন্দ্র সচিবালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ সশস্ত্র বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এসব প্রতিষ্ঠানে দক্ষ, নিরপেক্ষ ও দেশপ্রেমিক জনবল নিশ্চিত করা গেলে প্রশাসনিক সক্ষমতা ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী হবে- এমন অবস্থানেরই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

সাখাওয়াত হোসেনের বক্তব্যে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে এসেছে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর রাষ্ট্রের নিজস্ব প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই প্রেক্ষাপটে সাখাওয়াত হোসেনের মন্তব্যকে অনেকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অবশিষ্ট পুরোনো প্রভাব বা মানসিকতা দূর করার আহ্বান হিসেবে দেখছেন।

সাখাওয়াত হোসেন আরও মনে করেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে জাতীয় স্বার্থ, পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি অন্ধ আনুগত্যের পরিবর্তে দেশের প্রতি দায়বদ্ধতাই রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version