রাজবাড়ীতে পাঁচ লাখ টাকা প্রতারণার একটি মামলাকে ঘিরে পুলিশের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মামলার আসামি শিক্ষক গোলাম আওয়াল খান মাসুদ ও তাঁর স্ত্রী মাছুমা খাতুনের দাবি, তারা জীবনে কখনও বাদী কুলসুমকে চিনতেন না এবং তাঁর সঙ্গে কোনো আর্থিক লেনদেনও হয়নি। অথচ পুলিশের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। এর ভিত্তিতে গোলাম আওয়াল খান মাসুদকে ১৪ দিন কারাগারে থাকতে হয়। বর্তমানে তিনি সাময়িক বরখাস্ত রয়েছেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, কুলসুমের ছেলে শামছুল মণ্ডলকে সৌদি আরব পাঠানোর কথা বলে গত বছরের ১৫ জানুয়ারি শিক্ষক দম্পতি পাঁচ লাখ টাকা নেন। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, মামলায় উল্লেখ করা পাঁচ সাক্ষীর মধ্যে তিনজনের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। আরেক সাক্ষী সাগর বসু জানান, তিনি বাদীকে চেনেন না এবং এ মামলার সাক্ষীও নন।

শিক্ষক মাসুদের অভিযোগ, তদন্তকারী কর্মকর্তা তাঁর বক্তব্য নেননি। তিনি নিজে দেখা করতে গেলেও দুর্ব্যবহারের শিকার হন। অন্যদিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুল গনি স্বীকার করেন, সাক্ষীদের বাদী নিজেই তাঁর কাছে নিয়ে এসেছিলেন এবং তাঁদের পরিচয় বা অস্তিত্ব যাচাই করা হয়নি। এছাড়া অভিযোগে উল্লেখিত পাঁচ লাখ টাকা লেনদেনের কোনো লিখিত প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

এসবের পরও অভিযোগের সত্যতা কীভাবে পাওয়া গেল-এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি যা পেয়েছি, তাই রিপোর্ট দিয়েছি।”

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তবিবুর রহমান বলেন, আদালত শিক্ষককে নির্দোষ ঘোষণা করলে তাঁর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হবে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version