খুলনায় মেসে অন্যের ভাত ‘চুরি করে’ খাওয়ার অভিযোগে মো. আজমুল হোসেন (২১) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে মারধরের পর ছাদ থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা খানজাহান আলী আবাসিক হলের পেছনে ইসলামনগর রোডের একটি ছাত্র মেসে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আজমুল নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বড় শলুয়া গ্রামে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও মেসের শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, মেসের ম্যানেজার মেহেদীর ভাত খেয়ে ফেলার অভিযোগে আজমুলকে কয়েকজন ছাত্র ও বহিরাগত ছাদে নিয়ে মারধর করেন। পরে ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার বিকট শব্দ শুনে আশপাশের বাসিন্দারা গলিতে তাঁকে পড়ে থাকতে দেখেন।

মেসের শিক্ষার্থীরাই তাঁকে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর মেসের কয়েকজন শিক্ষার্থী জরুরি বিভাগের সামনে থেকে দ্রুত চলে যান।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, আজমুলের শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তাঁর দুই পা ভাঙা ছিল।

মেসের বুয়া ফাতেমা দাবি করেন, তিনি মারধরে বাধা দিলেও অভিযুক্তরা তা শোনেননি। এদিকে, মেসের ছাদে ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

আজমুলকে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে, নাকি অন্য কোনোভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছেতা- তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে। তবে মেসের ছাদে মারধরের অভিযোগ, আজমুলের শরীরের একাধিক আঘাত এবং দুই পা ভাঙার তথ্য ঘটনাটিকে ঘিরে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version