জামালপুরের মাদারগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত দুই মাসে মাদারগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ২৬টির বেশি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। পাশাপাশি সেচনির্ভর কৃষিকাজেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় মাদারগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ থানায় অভিযোগ করলে বিষয়টি তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পাওয়ার কথা জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন রাসেল মিয়া, যিনি মাদারগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে। তার রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ট্রান্সফরমার চুরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। চক্রটির সঙ্গে আরও কারা জড়িত এবং চুরি করা ট্রান্সফরমার কোথায় সরবরাহ বা বিক্রি করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রটির মূলহোতাদের শনাক্ত এবং পুরো নেটওয়ার্কের সন্ধান করতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। আদালত পরবর্তী শুনানিতে রিমান্ডের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।

পুলিশ বলছে, শুধু পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেই তদন্ত শেষ হচ্ছে না। গত দুই মাসে চুরি হওয়া ২৬টির বেশি ট্রান্সফরমারের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা, চুরির পদ্ধতি, সহযোগী এবং চোরাই মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত চক্রটির সব সদস্যকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং চুরি হওয়া ট্রান্সফরমার উদ্ধারের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা জরুরি। বিশেষ করে কৃষিপ্রধান এলাকায় সেচব্যবস্থা সচল রাখতে ট্রান্সফরমার চুরি বন্ধে কার্যকর নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version