পাবনার আটঘরিয়ায় একটি মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি মানববন্ধনকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ইকরাম মোল্লা (৫০) নামে এক ব্যক্তি পেটে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

রোববার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার শিবপুর ত্বহা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

সম্প্রতি মাদ্রাসাটির সহকারী শিক্ষক শামসুল আলম মঞ্জু ও প্রভাষক আফরোজা খাতুনকে ঘিরে অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের তদন্ত ও দুই শিক্ষককে অপসারণের দাবিতে গত ৩ আগস্ট মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন করে স্থানীয় একটি পক্ষ।

তবে অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে রোববার সকালে পাল্টা মানববন্ধনের আয়োজন করে অপর একটি পক্ষ। তারা দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ এবং মাদ্রাসার সুনাম রক্ষার দাবিতে ব্যানার নিয়ে মাদ্রাসার সামনে অবস্থান নেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অভিযোগ, কর্মসূচি শুরুর পর টিপু বিশ্বাস ও তার সহযোগীরা সেখানে গিয়ে তাদের ব্যানার কেড়ে নেন এবং মানববন্ধনে বাধা দেন। এ সময় উপস্থিত লোকজন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে টিপু বিশ্বাস কোমর থেকে একটি পিস্তল বের করে প্রথমে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন বলে অভিযোগ করা হয়।

এরপর বাধা দেওয়ার সময় ইকরাম মোল্লাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হলে তিনি পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ঘটনার পর গুলিবর্ষণকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান। খবর পেয়ে আটঘরিয়া ও আতাইকুলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উত্তেজনা থাকায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে দুই শিক্ষকের পক্ষের
লোকজন ও স্বজনরা মানববন্ধন করেন। সেখানে হোসেন আলী, বকুল হোসেন, আব্দুস সামাদ ও মজনু প্রামাণিকসহ স্থানীয়রা বক্তব্য দেন।

বক্তারা দাবি করেন, শিবপুর ত্বহা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসাটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি একটি পক্ষ দুই শিক্ষককে নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে মাদ্রাসার পরিবেশ ও সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করছে। এর প্রতিবাদেই তারা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের আয়োজন করেছিলেন।

তাদের অভিযোগ, মানববন্ধনে বাধা দেওয়ার একপর্যায়ে টিপু বিশ্বাস পিস্তল বের করে গুলি করেন এবং ইকরাম মোল্লাকে গুলি করে পালিয়ে যান। তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে গুলিবর্ষণের প্রকৃত কারণ, হামলাকারীদের পরিচয় এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version