আজ বাংলাদেশের বৃহত্তম, প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন, সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে দলটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচনা করেছে।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগ ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, ছয় দফা, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং সর্বোপরি মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের পেছনে দলটির অবদান ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান-এর নেতৃত্বে বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। সেই উত্তরাধিকার বহন করে আজও আওয়ামী লীগ নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারক হিসেবে তুলে ধরে।

৭৭ বছরের পথচলায় আওয়ামী লীগ শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং বাংলাদেশের স্বাধীনতা, স্বাধিকার ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার এক শক্তিশালী প্রতীক। নানা সংকট, ষড়যন্ত্র, সামরিক শাসন ও প্রতিকূলতা অতিক্রম করেও দলটি দেশের রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।

বর্তমান সভাপতি শেখ হাসিনা-র নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, ডিজিটাল রূপান্তর এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির নানা উদ্যোগের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার দাবি করে। সমর্থকদের ভাষায়, তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে একটি আত্মমর্যাদাশীল ও সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রত্যাশা আওয়ামী লীগ অতীতের গৌরব, ত্যাগ ও আদর্শকে ধারণ করে ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় নেতৃত্ব দেবে। সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার যে ইতিহাস নিয়ে দলটির জন্ম, সেই ইতিহাসই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি ও অনুপ্রেরণা।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version