জম্মু-কাশ্মীরের ভয়াবহ ওয়ান্ধামা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ২৮ বছর পর নতুন করে শুরু করেছে স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এসআইএ)। ১৯৯৮ সালের ওই ঘটনায় একই এলাকার ২৩ জন কাশ্মীরি পণ্ডিত নিহত হয়েছিলেন।
১৯৯৮ সালের ২৫ জানুয়ারি রাতে গান্দেরবল জেলার ওয়ান্ধামা গ্রামে সেনাবাহিনীর পোশাক পরে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বাড়িতে ঢোকে সশস্ত্র জঙ্গিরা। নিজেদের সেনাসদস্য পরিচয় দিয়ে তারা প্রথমে চা খেতে চায়। এতে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়নি।
বাড়িতে ঢোকার পর নারী, পুরুষ ও শিশুসহ পরিবারের সদস্যদের বাইরে এনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো হয়। এরপর তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে ২৩ জন নিহত হন। ঘটনাটি কাশ্মীর উপত্যকাজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল।
ওই হত্যাকাণ্ডে ১৪ বছর বয়সী বিনোদ কুমার ধর লুকিয়ে থেকে প্রাণে বেঁচে যান। তাঁকে মামলার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
দীর্ঘদিন মামলাটি অমীমাংসিত থাকার পর সম্প্রতি পুরোনো নথি ও আলামত নতুন করে পর্যালোচনা করছে এসআইএ। পাশাপাশি হামলায় জড়িত জঙ্গি, সহযোগী এবং স্থানীয় সহায়তাকারীদের শনাক্ত করতে নতুন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
ওয়ান্ধামা হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি কাশ্মীরি পণ্ডিত নেতা টিকা লাল টাপলু, নার্স সরলা ভাট, লেখক সর্বানন্দ কৌল প্রেমী ও তাঁর ছেলে বীরেন্দ্র কৌল এবং বিচারপতি নীলকান্ত গাঞ্জু হত্যার মামলাও নতুন করে তদন্তের আওতায় এসেছে।
চলতি বছরের জুনে সরলা ভাট হত্যা মামলায় ৭৩৭ পাতার চার্জশিট জমা দিয়েছে এসআইএ। আগস্টে সর্বানন্দ কৌল প্রেমী ও তাঁর ছেলে হত্যাকাণ্ডের তদন্তে উপত্যকার নয়টি স্থানে তল্লাশিও চালানো হয়।
তদন্তকারীদের দাবি, পুরোনো মামলাগুলোতে নতুন কিছু তথ্য ও সূত্র পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই করে হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা পরিকল্পনাকারী, হামলাকারী ও সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।


