দেশে হামের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২৭০ জন শনাক্ত হয়েছে। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন শনাক্তদের মধ্যে ১ হাজার ১৫৭ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। আর পরীক্ষায় ১১৩ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪৪৯ জনে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ৮৫১ জনের।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ১১ শিশুর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ছয়জন, চট্টগ্রামে দুজন, সিলেটের একজন, খুলনার একজন এবং রংপুরের একজন রয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিভাগভিত্তিক হিসাবে সামান্য পার্থক্য থাকলেও মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১১ জন।
চলতি মাসে এক দিনে হামের উপসর্গে এ সংখ্যক মৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও সামনে এনেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর তথ্য নেই; ১১টি মৃত্যুই হামের উপসর্গজনিত সন্দেহভাজন মৃত্যু হিসেবে হিসাবভুক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ১ হাজার ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছেন ১০১ জন, আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৭৫ জনের।
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১ লাখ ৬২ হাজার ৪৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬১২ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, একদিকে প্রতিদিন নতুন করে বিপুলসংখ্যক রোগী শনাক্ত হচ্ছে, অন্যদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুও অব্যাহত রয়েছে। ফলে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


