শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে নিখোঁজের নয় দিন পর বিল্লাল হোসেন (৪০) নামে এক ধান ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের জারুলতলা এলাকার অঞ্জনাঝুড়া গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রহস্য উদ্ঘাটনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ১৯ জন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
নিহত বিল্লাল হোসেন জারুলতলা গ্রামের মৃত গোলাপ হোসেনের ছেলে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিল্লাল এলাকায় ধান কেনাবেচার ব্যবসার পাশাপাশি সুদের কারবারও করতেন।
গত ৪ আগস্ট রাত ১০টার দিকে চা পান করার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন বিল্লাল। এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি তিনি। রাত গভীর হওয়ার পর স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সম্ভাব্য সব জায়গায় সন্ধান চালিয়েও তার কোনো খোঁজ না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
এরই মধ্যে বুধবার বিকেলে অঞ্জনাঝুড়া এলাকায় কয়েকজন শিশু-কিশোর মাছ ধরতে গেলে একটি স্থানে তীব্র দুর্গন্ধ পান। বিষয়টি তারা স্থানীয়দের জানালে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে ঝিনাইগাতী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। একপর্যায়ে মাটি খুঁড়ে সেখান থেকে বিল্লালের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড় জমে যায়। পরে পুলিশ প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম এবং নালিতাবাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আফসান আল আলম। তারা ঘটনাটি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নূর মোহাম্মদ জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ১৯ জন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


