বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩০ ঘরবাড়ি, নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে প্রায় ৪০০ মানুষ; অবহেলার অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ জেলেনস্কির
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে একটি অস্ত্র গুদামে রাশিয়ার ড্রোন হামলার পর ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪২ জন, যাদের মধ্যে চার শিশু রয়েছে। বিস্ফোরণের ঝুঁকি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে প্রায় ৪০০ বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার রাতে কিয়েভের মাইলা গ্রামের ওই অস্ত্র গুদাম লক্ষ্য করে রুশ বাহিনী ড্রোন হামলা চালায়। হামলার পর গুদামে থাকা গোলাবারুদ, মাইন ও ড্রোনে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে। এতে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্তত ১৩০টি বাড়িঘর ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রও রয়েছে।
কিয়েভের আঞ্চলিক প্রধান তিমুর তকাচেনকো জানিয়েছেন, হামলার পর বুচা জেলায় উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়ে আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন উদ্ধারকর্মীরা।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই ওই স্থাপনাটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে এফপি-১ ও এফপি-২ ধরনের দূরপাল্লার ড্রোন তৈরির উপকরণ ও বুস্টার মজুত ছিল।
তবে আবাসিক এলাকার এত কাছে বিপজ্জনক সামরিক সরঞ্জাম ও বিস্ফোরক মজুত রাখা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ৪৫ বছর বয়সী লিউবভ পাভলেঙ্কো ও ৬১ বছর বয়সী বরিস দানিলুক অভিযোগ করেন, জনবসতির কাছাকাছি অস্ত্র মজুত রাখার সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
ঘটনাটিকে শুধু রুশ হামলার ফল হিসেবে দেখছে না ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অস্ত্র গুদাম ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য গুরুতর অবহেলার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত ও ফৌজদারি মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশের পর আবাসিক এলাকার কাছে বিস্ফোরক ও সামরিক সরঞ্জাম মজুতের বৈধতা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে কিয়েভের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয়।


