রাজধানীর গেণ্ডারিয়ায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় এক নারীসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পুলিশের দাবি, সংঘর্ষের একপর্যায়ে স্থানীয় বিএনপির এক নেতা প্রথমে এলাকার বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে অবৈধ পিস্তল দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালান। পরে তিনি ও তাঁর সহযোগী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গেণ্ডারিয়ার করাতিটোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধরা হলেন- আয়েশা আক্তার (২০), চায়ের দোকানদার আলমগীর (৩৩) ও সিয়াম (১৮)।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, গুলিবিদ্ধ তিনজনকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। সিয়ামের বুকের বাম পাশে, আলমগীরের মাথায় এবং আয়েশার ডান পায়ে গুলির আঘাত রয়েছে।
স্থানীয় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধের সূত্রপাত। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সক্রিয় সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা মনির হোসেন ও তাঁর ভাগ্নে রাসেল অপর এক মাদক ব্যবসায়ী রাসেলের ওপর হামলা চালান। ওই রাসেল কারাবন্দি অস্ত্রধারী মাদক ব্যবসায়ী ‘অটো সজল’-এর চাচা।
পুলিশের অভিযোগ, হামলার সময় মনির হোসেন প্রথমে করাতিটোলা এলাকার বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এরপর একটি অবৈধ পিস্তল দিয়ে এলাকায় এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া হয়। এতে ঘটনাস্থলের আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। গুলির পর মনির হোসেন ও তাঁর ভাগ্নে রাসেল দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
তবে আহতদের পরিচয় নিয়ে পুলিশ ও হাসপাতালের তথ্যে কিছুটা অমিল রয়েছে। গেণ্ডারিয়া থানা পুলিশের প্রতিবেদনে আহতদের নাম আয়েশা, রুবেল ও রাসেল উল্লেখ করা হলেও ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের তথ্য অনুযায়ী আহত তিনজন হলেন আয়েশা, আলমগীর ও সিয়াম।
ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। গেণ্ডারিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে রাজধানীর জনবহুল এলাকায় অস্ত্রের ব্যবহার ও প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


