ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনিকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠককে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ইরানের পার্লামেন্ট সদস্য কামরান ঘাজানফারি। তবে তিনি তার দাবির পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
ইরানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ইতা’-তে বুধবার (২৪ জুন) দেওয়া এক পোস্টে ঘাজানফারি দাবি করেন, মোজতবা খামেনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য শেহবাজ শরিফের আগ্রহের পেছনে একটি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র কাজ করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মোজতবা খামেনিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে চায় এবং সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর বা বৈঠককে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হতে পারে।
ঘাজানফারি বলেন, “মোজতবা খামেনিকে শহীদ করার যে পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল করে চলেছে, শেহবাজ শরিফের সঙ্গে তার সম্ভাব্য সাক্ষাৎ সেই পরিকল্পনারই একটি অংশ হতে পারে। এর মাধ্যমে মোজতবার নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
তার এই বক্তব্য প্রকাশের পর ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ইরান সরকার, পাকিস্তান সরকার, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি এক যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়। ওই ঘটনার পর ইরানের জাতীয় সুপ্রিম কাউন্সিল মোজতবা খামেনিকে দেশের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। যদিও দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি জনসমক্ষে খুব কমই উপস্থিত হয়েছেন এবং তার নিরাপত্তা নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরে বিশেষ সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে।
ইরানি সূত্রগুলো জানায়, যে হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন, সেদিন একই প্রাসাদে অবস্থান করছিলেন মোজতবা খামেনিও। তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। এরপর থেকেই তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এমন অভিযোগ নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। তবে প্রমাণ ছাড়া উত্থাপিত এসব দাবি কতটা বাস্তবভিত্তিক, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্নও উঠছে। ফলে শেহবাজ শরিফকে ঘিরে উত্থাপিত এই অভিযোগ আপাতত রাজনৈতিক বিতর্ক হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে, যদিও বিষয়টি ইরান-পাকিস্তান সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


