মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ইরান যদি পুনরায় কোনো ধরনের হামলা বা আগ্রাসী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তার জবাবে কঠোর শক্তি প্রয়োগ করবে।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এ সতর্কবার্তা দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তার এই মন্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে একটি মালবাহী জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে তারা পাল্টা সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
পোস্টে জেডি ভ্যান্স বলেন, “ইরান যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সেই চুক্তির প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে তা বাস্তবায়ন করছে। সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়ন নিয়ে তেহরানের কোনো আপত্তি বা উদ্বেগ থাকলে তারা আলোচনার মাধ্যমে তা তুলে ধরতে পারে।”
তবে একই সঙ্গে তিনি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, “সহিংসতার জবাব সহিংসতার মাধ্যমেই দেওয়া হবে।” তার এই মন্তব্যকে ইরানের প্রতি সরাসরি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
এর আগে প্রায় চার মাস ধরে চলা সংঘাত ও উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ওই সমঝোতার মাধ্যমে উভয় পক্ষ উত্তেজনা কমানো এবং সংঘাত এড়ানোর বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় সেই সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের হামলার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। হামলার ঘোষণা প্রকাশের কিছুক্ষণ আগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ইরানের হামলার জবাব দেওয়া হবে কি না, তা খুব শিগগিরই দেখতে পাবেন।”
ওয়াশিংটনের এমন কড়া অবস্থান নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আবারও সংঘাতমুখী হয়ে উঠতে পারে, যদি কূটনৈতিক উদ্যোগ দ্রুত কার্যকর না হয়।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতোমধ্যে উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। তবে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে অঞ্চলটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।


