দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে ওঠা এক বিস্ফোরক অভিযোগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি প্রচারকে ঘিরে দাবি করা হয়েছে, সাংবাদিক, শিক্ষক, লেখক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও মুক্তবুদ্ধির মানুষের বিরুদ্ধে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পরিকল্পনাকারীদের সঙ্গে ইউনূসের ‘কিচেন ক্যাবিনেট’-এর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল।
দেশের বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মী হত্যার ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো অপরাধ ছিল না; বরং এগুলোর পেছনে ছিল সুসংগঠিত একটি নেটওয়ার্ক, যার লক্ষ্য ছিল ভিন্নমত ও প্রগতিশীল কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করে দেওয়া। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, রাষ্ট্র পরিচালনার আড়ালে থাকা একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে সমাজে ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং এটি দেশের রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। বিশেষ করে সাংবাদিক, শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মীদের নিরাপত্তা এবং অতীতের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের রায় প্রকাশ্যে আসেনি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় অতীতের সহিংসতা, গুম, হত্যা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নানা পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যমান। ফলে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন উঠেছে- অতীতের আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলোর প্রকৃত নেপথ্য কারা? এসব ঘটনার সঙ্গে কোনো প্রভাবশালী মহল জড়িত ছিল কি না, তা উদঘাটনে নতুন কোনো তদন্ত উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।


