সস্তা বাজার উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উচ্চমূল্যে গম কেনার অনুমোদন; বাড়ছে জনগণের অর্থ অপচয়ের অভিযোগ সরকারের বিরুদ্ধে।
আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম তুলনামূলকভাবে কম থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে উচ্চমূল্যে আরও ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সিঙ্গাপুর থেকেও ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে অনুমোদিত এই দুই প্রস্তাবে সরকারের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫২ কোটি ৪০ লাখ ৯৪ হাজার টাকা।
এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলক কম দামে গম পাওয়া সম্ভব হলেও কেন বেশি মূল্যে গম আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো-তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় ধারাবাহিকভাবে গম আমদানি করে আসছে বাংলাদেশ। এর আগে চারটি চালানে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি গম দেশে এসেছে। চলতি বছরও একই প্রক্রিয়ায় আরও কয়েক দফা গম আমদানি করা হয়েছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে রাশিয়া, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, রোমানিয়া, ইউক্রেন, আর্জেন্টিনা ও কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে নিয়মিত গম আমদানি করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এসব দেশের বাজারদর ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় অনেক ক্ষেত্রেই কম দামে গম সংগ্রহের সুযোগ ছিল। ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলনামূলক বেশি দামে গম কেনার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জনগণ যখন উচ্চ মূল্যস্ফীতি, খাদ্যদ্রব্যের লাগামহীন দাম এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে দিশেহারা, তখন সরকারের এমন সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। জনগণের করের অর্থ ব্যয় করে বাজারদরের চেয়ে বেশি মূল্যে খাদ্যশস্য আমদানি করার ফলে শেষ পর্যন্ত সেই আর্থিক চাপ জনগণের কাঁধেই এসে পড়বে।
সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র এবং সর্বনিম্ন ব্যয়ে পণ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে বিকল্প উৎস থাকা সত্ত্বেও বেশি মূল্যে গম কেনা হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে- এতে দেশের জনগণ কতটা উপকৃত হবে।
বিএনপি সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় পরিকল্পনার ঘাটতি, আমদানি নীতিতে অসঙ্গতি এবং জনগণের অর্থ ব্যবহারে জবাবদিহিতার অভাব ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তাদের দাবি, বাজারদরের তুলনায় বেশি দামে গম আমদানি করে সরকারের এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমানোর পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের বোঝা আরও বাড়াবে।
খাদ্য নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে জনগণের স্বার্থ সরাসরি জড়িত। তাই আন্তর্জাতিক বাজারদরের চেয়ে বেশি মূল্যে গম কেনার এ সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ এবং ক্রয় প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।


