মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ প্রজন্ম ‘জেনারেশন জেড’ (Gen Z) নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কারোলিনে লিভত্তি। নিজের প্রজন্মকেই ‘অলস’, ‘অতিরিক্ত সুবিধাভোগী’ এবং ‘উদারপন্থী আদর্শে প্রভাবিত’ বলে অভিহিত করে তিনি দাবি করেছেন, দেশের অর্থনীতি নিয়ে অভিযোগ করা কিছু তরুণকে কিউবা বা ইরানের মতো দেশে পাঠানো হলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের মূল্য বুঝতে শিখবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম NDTV-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি Fox News-এর একটি আলোচনায় অংশ নিয়ে ২৮ বছর বয়সী লেভিট এসব মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের উপস্থাপক যেসে ওয়াটার্স-এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের একটি বড় অংশ এমন পরিবেশে বেড়ে উঠেছে যেখানে তারা জীবনের অনেক সুযোগ-সুবিধা সহজেই পেয়েছে। ফলে কঠোর পরিশ্রম, আত্মনির্ভরতা এবং ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধের মতো ঐতিহ্যগত মার্কিন মূল্যবোধ থেকে তারা ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে।
লেভিটের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্যের ভিত্তি ছিল মেধা, পরিশ্রম এবং নিজের প্রচেষ্টায় সফল হওয়ার সংস্কৃতি। কিন্তু বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর জীবনধারা, তাৎক্ষণিক ফল পাওয়ার মানসিকতা এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ তরুণদের একাংশকে ভিন্ন পথে নিয়ে যাচ্ছে।
তবে তার এই মন্তব্যের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া। সমালোচকদের মতে, জেন জি প্রজন্মকে অলস আখ্যা দেওয়া বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ বর্তমান তরুণরা ইতিহাসের অন্যতম কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয়, শিক্ষাঋণের চাপ, আবাসন সংকট এবং অনিশ্চিত চাকরির বাজারের কারণে তারা আগের প্রজন্মের তুলনায় অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের মধ্যে জীবনযাপন করছে।
জেন জি এমন এক যুগে বেড়ে উঠেছে যেখানে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল কর্মবাজার তাদের প্রতিনিয়ত নতুন দক্ষতা অর্জনে বাধ্য করছে। ফলে পুরো একটি প্রজন্মকে ‘অলস’ বলে চিহ্নিত করা বাস্তব পরিস্থিতিকে সরলীকরণ করার শামিল।
আলোচনার সময় লেভিট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সমালোচনাও করেন। তার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু উদারপন্থী অধ্যাপক এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা তরুণদের মধ্যে এমন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করছেন, যা ঐতিহ্যগত মার্কিন মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি সেইসব অভিভাবকদের প্রশংসা করেন যারা সন্তানদের হোমস্কুলিং বা ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাচ্ছেন।
কথোপকথনের একপর্যায়ে উপস্থাপক জেসি ওয়াটার্স রসিকতা করে অবাধ্য তরুণদের বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণে পাঠানোর কথা বললে লেভিট আরও বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘তাদের কিউবা বা ইরানে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত। তাহলে তারা খুব দ্রুতই দেশে ফিরে আসতে চাইবে।’
এই মন্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই এটিকে তরুণদের বাস্তব সমস্যাকে অবজ্ঞা করার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, রক্ষণশীল মহলের একাংশ লেভিটের বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত কর্মসংস্কৃতি ও আত্মনির্ভরতার পক্ষে অবস্থান হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
সব মিলিয়ে, জেন জি প্রজন্মকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে যে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরে চলছে, লেভিটের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। তরুণদের জীবনযাত্রা, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নতুন আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।


