বাংলাদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য, বিবৃতি, অডিও কিংবা ভিডিও প্রচার না করতে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রতি সরকারের আহ্বান ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বক্তব্য প্রচার বন্ধের উদ্যোগ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং জনগণের তথ্য জানার অধিকারের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা এবং প্রচলিত আইনের আলোকে এই আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে সমালোচকদের প্রশ্ন- আদালতের একটি নির্দেশনা বাস্তবায়নের নামে কি একটি রাজনৈতিক কণ্ঠকে সম্পূর্ণভাবে জনপরিসর থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে?
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তি, এমনকি অভিযুক্ত বা সাজাপ্রাপ্ত রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যও সংবাদমূল্য বিবেচনায় গণমাধ্যমে আলোচিত হতে পারে। কারণ জনগণের সামনে তথ্য উপস্থাপন করা, বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরা এবং সত্য-মিথ্যা যাচাই করার সুযোগ তৈরি করাই স্বাধীন সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি।
গণমাধ্যমকে যদি নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করা হয়, তাহলে তা ধীরে ধীরে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করতে পারে। তাদের দাবি, ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে-তথ্য নিয়ন্ত্রণ ও বিরুদ্ধ মত দমন থেকেই কর্তৃত্ববাদী শাসনের সূচনা ঘটে।
রাষ্ট্রের ক্ষমতা তখনই গণতান্ত্রিক থাকে, যখন সরকার সমালোচনার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত থাকে। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক মত, বক্তব্য বা ব্যক্তিকে জনআলোচনা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ফ্যাসিবাদী প্রবণতার বহিঃপ্রকাশে বর্তমান সরকারের উদ্যোগ নিন্দনীয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করা, বিরোধী কণ্ঠ নিয়ন্ত্রণ করা এবং তথ্যপ্রবাহ সীমিত করার যে কোনো উদ্যোগ গণতন্ত্রের মৌলিক কাঠামোকে দুর্বল করে।


