ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে যেন এক অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত হয়েছে আর্জেন্টিনা। একের পর এক বাধা পেরিয়ে দুর্দান্ত ছন্দে সেমিফাইনালে উঠে এসেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আক্রমণভাগের ধার, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় প্রতিপক্ষদের জন্য ভয়ংকর প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে লিওনেল মেসির দল।
কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচজুড়ে বলের দখল, দ্রুতগতির আক্রমণ এবং নিখুঁত পাসিংয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে আলবিসেলেস্তারা। সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতাও ছিল চোখে পড়ার মতো।
শুধু এই ম্যাচই নয়, পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে নিজেদের শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে আর্জেন্টিনা। নকআউট পর্বে কেপ ভার্দেকে ৩-২ এবং শেষ ষোলোতে মিশরকে একই ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছিল তারা। প্রতিটি ম্যাচেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে রক্ষণভাগও দারুণ দৃঢ়তা দেখিয়েছে।
দলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসি অভিজ্ঞতা দিয়ে আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার সঙ্গে তরুণ ও উদীয়মান ফুটবলারদের সমন্বয়ে আর্জেন্টিনার আক্রমণ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। মাঝমাঠে দ্রুত বল আদান-প্রদান এবং উইং দিয়ে ধারাবাহিক আক্রমণ প্রতিপক্ষের রক্ষণকে বারবার বিপাকে ফেলছে।
আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি এখন তাদের দলগত সমন্বয়। কোনো একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর না করে পুরো দলই দায়িত্ব ভাগ করে নিচ্ছে। ফলে প্রতিটি ম্যাচেই তারা আত্মবিশ্বাসী এবং সংগঠিত ফুটবল উপহার দিচ্ছে।
এখন সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার অপেক্ষায় আর্জেন্টিনা। তবে বর্তমান ফর্ম, আত্মবিশ্বাস এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় ফুটবলবিশ্বের অনেকেই মনে করছেন, আলবিসেলেস্তাদের থামানো সহজ হবে না। শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলা এই আর্জেন্টিনা সত্যিই এখন বিশ্বকাপের সবচেয়ে ‘অপ্রতিরোধ্য’ দলগুলোর একটি।


