৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ানো তাপমাত্রায় বিপর্যস্ত ইউরোপের একাধিক দেশ; জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নজিরবিহীন গরমে স্বাস্থ্য ও জনজীবনে চরম সংকট দেখা দিয়েছে সাম্প্রতিকালে।
ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ এক মানবিক ও পরিবেশগত সংকটে রূপ নিয়েছে। মহাদেশটির বিভিন্ন দেশে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি অতিক্রম করায় জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড গরম ও তাপঘাতজনিত কারণে ইতোমধ্যেই ১,৫০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক দশকগুলোতে ইউরোপে এমন ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ খুব কমই দেখা গেছে।
ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, পর্তুগাল এবং গ্রিসসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। দিনের বেলায় রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ছে, হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে তাপজনিত অসুস্থ রোগীর সংখ্যা। প্রবীণ, শিশু এবং শারীরিকভাবে দুর্বল মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ইউরোপ সাধারণত নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ার জন্য পরিচিত হলেও এবারের তাপপ্রবাহ সেই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। বহু এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির ওপরে স্থায়ী হওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ বেড়েছে, পানির সংকট দেখা দিয়েছে এবং কৃষি খাতেও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যত বাড়ছে, ততই ইউরোপে চরম আবহাওয়ার ঘটনা ঘন ঘন দেখা যাচ্ছে। একসময় যে মহাদেশ শীতল আবহাওয়ার জন্য পরিচিত ছিল, আজ সেই ইউরোপই রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছে। অনেক আবহাওয়া গবেষক এই পরিস্থিতিকে ইউরোপের আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ তাপদুর্যোগ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
তাপপ্রবাহের কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে দাবানলের ঝুঁকিও বেড়ে গেছে। স্পেন ও গ্রিসের কিছু এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে, যার ফলে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পর্যটন শিল্প, কৃষি উৎপাদন এবং দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
ইউরোপীয় দেশগুলোর সরকার জনগণকে অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং তীব্র রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। তবে আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির সম্ভাবনা কম, ফলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মধ্যে ইউরোপের এই নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ নতুন করে সতর্কবার্তা হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্যকর পরিবেশনীতি ও বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগ জোরদার না হলে ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় আরও ঘন ঘন এবং আরও ভয়াবহ রূপে ফিরে আসতে পারে।


