ফরিদপুরের পদ্মা নদী থেকে অজ্ঞাত এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। নিহত নারীর বয়স আনুমানিক ৩৮ বছর। তার দুই হাতে শাখা-চুড়ি, বাঁ হাতে একটি ট্যাটু এবং দুই পায়ে নূপুর রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
শনিবার সন্ধ্যায় ফরিদপুর সদর উপজেলার আলীয়াবাদ ইউনিয়নের সাদিপুর বাজারসংলগ্ন পদ্মা নদীতে স্থানীয়রা মরদেহটি ভাসতে দেখেন। পরে খবর পেয়ে রাত ৮টার দিকে নৌ-পুলিশের ফরিদপুর কোতোয়ালি ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান বিপুল জানান, নদীতে মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা তাকে বিষয়টি জানান। পরে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করেন। খবর পেয়ে নৌ-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রত্যক্ষদর্শী মুনসুর আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, নারীর গলা থেকে নাভি পর্যন্ত সেলাইয়ের দাগ রয়েছে। এছাড়া গলার অংশে কাটার চিহ্নও দেখা গেছে। দুই হাতে শাখা-চুড়ি, বাঁ হাতে সনাতন ধর্মসংক্রান্ত ট্যাটু এবং দুই পায়ে নূপুর ছিল।
ফরিদপুর নৌ-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় দিন আগে ওই নারীকে হত্যা করে মরদেহটি পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়া হতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ আরও জানায়, মরদেহের দুই হাতের আঙুল পচে যাওয়ায় এবং মাছের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিহতের পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অজ্ঞাত ওই নারীর পরিচয় ও মৃত্যুর রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


