ফ্রান্সের এভিয়ান শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের শেষ দিনে কূটনীতির গম্ভীর পরিবেশে হঠাৎই হাসির ঝড় তুললেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সম্মেলনের তৃতীয় দিনের সকালে বিশ্বনেতারা যখন নিজ নিজ আসনে বসে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই কিছুটা দেরিতে কক্ষে প্রবেশ করেন ট্রাম্প। ঢুকেই চারদিকে তাকিয়ে আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে ঘোষণা দেন, “আমিই বস!”
ট্রাম্পের এমন মন্তব্য শুনে মুহূর্তেই সভাকক্ষে হাসির রোল পড়ে যায়। কেউ মুচকি হাসলেন, কেউ আবার খোলাখুলিভাবেই হেসে উঠলেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও পরিস্থিতিকে বেশ উপভোগ করেন। তিনি হাসিমুখে ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করেন, “কেমন আছেন?”
ট্রাম্পও দ্রুত জবাব দেন, “ভালো, ধন্যবাদ!”—এরপর তিনি নিজের আসনে গিয়ে বসেন, যেন কিছুই হয়নি।
রাজনীতিতে আসার আগে সফল ব্যবসায়ী এবং জনপ্রিয় টিভি শো ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’-এর সঞ্চালক ছিলেন ট্রাম্প। সেখানে তার বিখ্যাত সংলাপ ছিল, “ইউ আর ফায়ারড!”। তাই অনেকের মতে, জি-৭ মঞ্চেও তিনি যেন সেই পুরোনো টিভি ব্যক্তিত্বের ছাপই রেখে গেলেন।
সম্মেলনে ট্রাম্পের উপস্থিতি এমনিতেই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ইরান-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সমঝোতা এবং নিজের ৮০তম জন্মদিন উদযাপনের পর বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তার এই সাক্ষাৎ আরও বেশি নজর কাড়ে।
ফরাসি কর্মকর্তারা অবশ্য স্বস্তি প্রকাশ করেছেন যে, ট্রাম্প পুরো সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এবং যৌথ ঘোষণাপত্রেও স্বাক্ষর, করেছেন। কারণ আগের এক সম্মেলনে তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদায় নিয়েছিলেন।
সম্মেলন শেষে ম্যাক্রোঁ ট্রাম্পকে ঐতিহাসিক ভার্সাই প্রাসাদে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানান। তবে সমালোচনার আশঙ্কায় আগেভাগেই জানিয়ে দেন, এটি কোনো রাজকীয় ‘গালা ডিনার’ নয়।
তবে জি-৭ সম্মেলনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে হয়তো ইতিহাসে লেখা থাকবে ট্রাম্পের সেই সংক্ষিপ্ত ঘোষণা—“আমিই বস!”
আর বিশ্বনেতাদের নীরব প্রতিক্রিয়া ছিল যেন, “ঠিক আছে, বস!”


