সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত প্রকাশ্যে মাঠে নামা ও এলাকায় উপস্থিতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে—এসএমপি’র আওতাধীন কোনো এলাকায় আওয়ামী লীগ বা এর অঙ্গসংগঠনের রাজনৈতিক কর্মসূচি বা জনসমাবেশ হলে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এছাড়া প্রতিটি থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রতিদিন অফিসার ও ফোর্স দিয়ে একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের কমপক্ষে দুইজনকে গ্রেফতার করা হবে।
নির্দেশনাটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি), ডিবি, ট্রাফিক ও অন্যান্য শাখায় পাঠানো হয়েছে।
⸻
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
নির্দেশনার খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
• অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল: “এটি বাংলাদেশের সংবিধান ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের পরিপন্থী। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক কার্যক্রমের অধিকার এভাবে খর্ব করা যায় না।”
• হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW): “একটি গণতান্ত্রিক দেশে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে দমন করার জন্য রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করা হলে তা বাংলাদেশে আইনের শাসনকে আরও দুর্বল করবে।”
• এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন (AHRC): “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জনগণের নিরাপত্তা রক্ষা করবে—রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা তাদের দায়িত্ব নয়। এ ধরনের নির্দেশ প্রশাসনের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।”
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার কর্মীরাও জানিয়েছেন, এই নির্দেশনা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
⸻
দেশের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মহলে রাজনৈতিক সহিষ্ণুতা নিয়ে সমালোচিত। একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে প্রকাশ্যে মাঠে নামতে না দেওয়ার পাশাপাশি গ্রেফতারের নির্দেশ এই সমালোচনাকে আরও ঘনীভূত করবে।
তাদের মতে, “যখন দেশকে বৈশ্বিক পর্যায়ে বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতার জন্য ইতিবাচক ইমেজ দরকার, তখন এ ধরনের পদক্ষেপে বিদেশি অংশীদাররা আস্থা হারাতে পারেন।”
⸻
অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া
দেশের ভেতরও এই নির্দেশনার বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ নাগরিকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য করেছেন—
“আইনের লোক থেকে এমন মন্তব্য কোনোভাবেই আশা করা যায় না। পুলিশের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, কোনো রাজনৈতিক দলকে দমন করা নয়।”
তাদের মতে, পুলিশের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক নির্দেশনা ও গ্রেফতারের পদক্ষেপ গণতন্ত্রের ভিত্তি দুর্বল করে।



উপসংহার
এখনও পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা আসেনি। মানবাধিকার সংগঠনগুলো অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই নিষেধাজ্ঞা ও গ্রেফতারের নির্দেশ বহাল থাকে, তবে তা শুধু দেশের রাজনীতিকেই উত্তপ্ত করবে না, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও গণতান্ত্রিক অবস্থানকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।


