সারাদেশে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কৃষি, পোলট্রি ও মৎস্য খাত। কোথাও দিনে ১০ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ রয়েছে। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে মারা যাচ্ছে মুরগি, চিংড়ি ঘেরে কমছে অক্সিজেন, ব্যাহত হচ্ছে সেচ ও বরফ উৎপাদন। একই সঙ্গে ঝুঁকিতে পড়েছে হিমাগারে সংরক্ষিত আলু, বীজ ও পেঁয়াজ।
ইলিশ মৌসুমে বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চাঁদপুর ও কক্সবাজারের বরফকলগুলোতে উৎপাদন কমে গেছে। বিদ্যুৎ সংকটে অনেক জায়গায় বরফের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দামও বেড়েছে। কোথাও ১৫০ টাকার বরফের ক্যান কিনতে হচ্ছে প্রায় ৩০০ টাকায়। ফলে মাছ সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
খুলনার পাইকগাছা ও কয়রায় চিংড়ি ঘেরের এয়ারেটর নিয়মিত চালানো যাচ্ছে না। এতে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে চিংড়ি মারা যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চাষিরা বাধ্য হয়ে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহারের কথা ভাবছেন। এতে চিংড়ি উৎপাদনের খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে।
পোলট্রি খাতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। যশোরের অভয়নগরে টানা আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় একটি খামারের চার শতাধিক মুরগি মারা গেছে। এতে খামারটির তিন লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। জয়পুরহাট, টাঙ্গাইল ও চট্টগ্রামের খামারিরাও লোডশেডিং ও বাড়তি জেনারেটর ব্যয়ের কথা জানিয়েছেন। কোনো কোনো খামারির ক্ষেত্রে জেনারেটর পরিচালনার মাসিক খরচ কয়েক হাজার টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়েছে।
এদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় কৃষকদের সেচ ব্যাহত হচ্ছে। হিমাগারে জেনারেটর চালাতে গিয়ে বাড়ছে পরিচালন ব্যয়। দীর্ঘ লোডশেডিং চলতে থাকলে আলু ও বীজ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। পাবনায় সংরক্ষিত পেঁয়াজেও ব্যাপক পচন দেখা দিয়েছে।
সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শুধু উৎপাদনই ব্যাহত হচ্ছে না, ডিজেল, জেনারেটর, বরফ ও সংরক্ষণ ব্যয় বাড়ায় অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন ও পরিচালন খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। এতে কৃষক, খামারি ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের লোকসান বাড়ছে এবং এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত বাজারে মাছ, মুরগি, ডিম ও কৃষিপণ্যের দামের ওপর পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকার অবশ্য দীর্ঘমেয়াদে কৃষিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিনির্ভরতা কমাতে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে সেই উদ্যোগ কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত চলমান লোডশেডিং খাদ্য উৎপাদন ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে আরও বড় চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


