বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিল ফ্রান্স। অভিজ্ঞতা, তারকাখচিত স্কোয়াড এবং দুর্দান্ত দলীয় পারফরম্যান্সে আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সবার আগে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। একই সঙ্গে টানা তিনটি বিশ্বকাপে শেষ চারে উঠে নতুন এক কীর্তিও গড়েছে বর্তমান ও সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় বোস্টনে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালের শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নেয় ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান ডেম্বেলে ও মধ্যমাঠের দারুণ সমন্বয়ে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে ইউরোপের দলটি। অন্যদিকে মরক্কো নিজেদের রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
ম্যাচের ২৮তম মিনিটে ফ্রান্স পেনাল্টির সুবর্ণ সুযোগ পায়। এমবাপ্পেকে থামাতে গিয়ে পেনাল্টি বক্সে ফাউল করেন নুসাইর মাজরাউই। রেফারি প্রথমে পেনাল্টির বাঁশি বাজালেও পরে ভিএআর দেখে সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেন। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি এমবাপ্পে। তার নেওয়া দুর্বল শট সহজেই আটকে দেন মরক্কোর নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনো।
পেনাল্টি মিস করলেও দমে যাননি এমবাপ্পে। দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ফ্রান্স। ৬০তম মিনিটে নিজের স্বভাবসুলভ গতিতে কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত এক বাঁ-পায়ের শটে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা ফরোয়ার্ড। গোল করে ফ্রান্সকে কাঙ্ক্ষিত লিড এনে দেন তিনি।
প্রথম গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আরও বড় আঘাত হানে ফ্রান্স। মাত্র ছয় মিনিট পর উসমান ডেম্বেলে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। শট ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন ইয়াসিন বোনো, কিন্তু বলের গতির কাছে হার মানতে হয় তাকে। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর কিছুক্ষণ পরই কোচ এমবাপ্পেকে বিশ্রাম দিতে বদলি করে মাঠের বাইরে তুলে নেন।
শুধু আক্রমণ নয়, রক্ষণেও ছিল ফ্রান্সের আধিপত্য। পুরো ম্যাচে মরক্কো ফরাসি রক্ষণ ভেদ করে গোলমুখে মাত্র একটি কার্যকর শট নিতে সক্ষম হয়। আফ্রিকার দলটি কয়েকবার আক্রমণ গড়লেও উইলিয়াম সালিবা ও ইব্রাহিমা কোনাতেদের নেতৃত্বে ফ্রান্সের ডিফেন্স ছিল প্রায় অপ্রতিরোধ্য।
অন্যদিকে ফ্রান্স ম্যাচজুড়ে গোলের জন্য একের পর এক সুযোগ সৃষ্টি করে। ২২টি শটের মধ্যে ৯টি ছিল লক্ষ্যে, যা মরক্কোর রক্ষণভাগকে পুরো সময় চাপে রাখে। ইয়াসিন বোনো কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ না করলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।
এই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলকে হারিয়ে এবং নকআউট পর্বে নেদারল্যান্ডসকে বিদায় করে চমক দেখিয়েছিল মরক্কো। টানা দ্বিতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্নও দেখছিল আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সের সামনে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল, কার্যকর আক্রমণ এবং দুর্ভেদ্য রক্ষণে মরক্কোকে হারিয়ে আবারও বিশ্বকাপের শেষ চারে জায়গা করে নেয় ‘লে ব্লু’।


