ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ ‘এ’-তে দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলা শেষে নাটকীয় মোড় নিয়েছে পয়েন্ট টেবিলের হিসাব। মেক্সিকোর কাছে হেরে শেষ ষোলো (শেষ ৩২) নিশ্চিত করার সুযোগ হাতছাড়া করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। ফলে শেষ ম্যাচের আগে কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে এশিয়ার দলটি।
বৃহস্পতিবার গুয়াদালাহারায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে পরাজিত করে মেক্সিকো। ম্যাচের একমাত্র ও জয়সূচক গোলটি করেন লুইস রোমো। অন্য ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ আফ্রিকা ১-১ গোলে ড্র করেছে। চেকদের হয়ে মিখাল সাদিলেক প্রথমে গোল করে দলকে এগিয়ে নিলেও ম্যাচের শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরান দক্ষিণ আফ্রিকার তেবোহো মোকোয়েনা।
দুই ম্যাচ শেষে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে মেক্সিকো। টানা দুই জয়ে তারা সবার আগে শেষ ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও তাদের অবস্থান এখনো নিরাপদ নয়। অন্যদিকে চেক প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ সমান ১ পয়েন্ট। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে চেকরা রয়েছে তৃতীয় স্থানে।
এখন দক্ষিণ কোরিয়ার সামনে সমীকরণ তুলনামূলক সহজ হলেও চাপ কম নয়। শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয় পেলেই তারা নিশ্চিতভাবে পরের রাউন্ডে চলে যাবে। এমনকি ড্র করলেও তাদের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত হবে, কারণ হেড-টু-হেড হিসেবে তারা চেক প্রজাতন্ত্রের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।
অন্যদিকে চেক প্রজাতন্ত্রের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। শেষ ম্যাচে শক্তিশালী মেক্সিকোকে হারানোর পাশাপাশি তাদের প্রার্থনা করতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে যেন হেরে যায় দক্ষিণ কোরিয়া। তবেই সরাসরি দ্বিতীয় স্থান দখলের সুযোগ তৈরি হবে। তবে তৃতীয় স্থানেও শেষ করলে পুরোপুরি আশা শেষ হবে না, কারণ বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলও পরের রাউন্ডে খেলার সুযোগ পাবে।
দক্ষিণ আফ্রিকার সমীকরণ আরও জটিল। তাদের শুধু দক্ষিণ কোরিয়াকে হারালেই হবে না, একই সঙ্গে মেক্সিকোর বিপক্ষে চেক প্রজাতন্ত্রকেও পরাজিত হতে হবে। এই দুই ফল একসঙ্গে মিললে হেড-টু-হেড সুবিধায় দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় স্থানে উঠে গিয়ে সরাসরি শেষ ৩২-এর টিকিট পেয়ে যাবে।
গ্রুপ ‘এ’-তে মেক্সিকো ইতোমধ্যেই নিজেদের কাজ সেরে ফেলেছে। এখন সবার নজর শেষ রাউন্ডের দুই ম্যাচে, যেখানে দক্ষিণ কোরিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ আফ্রিকার ভাগ্য নির্ধারণ হবে। এক ম্যাচের ফলেই বদলে যেতে পারে পুরো গ্রুপের চিত্র, আর সেই কারণেই শেষ ম্যাচগুলো হয়ে উঠেছে ‘বাঁচা-মরার লড়াই’।


