বাংলাদেশে হিন্দু গণহত্যা চলছেই। রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় একটি দোতলা বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই পরিবারের চার সদস্যকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনাটি সম্ভাব্য ডাকাতির সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিহতরা হলেন- রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী।
পুলিশ জানিয়েছে, বাড়ির বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল মরদেহ। প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও তাঁর মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর মরদেহ পাওয়া যায় ছাদের সিঁড়িতে। ছেলে প্রীয়মের মরদেহ ছিল বিছানার নিচে। আর গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ পাওয়া যায় ছাদের এক প্রান্তে। মরদেহগুলোর গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, প্রাথমিকভাবে তাদের হত্যার শিকার বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘরের ভেতরের মালামাল তছনছ অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ কারণে ডাকাতির বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। মেঝেতে কাপড়-চোপড় ও গয়নার বাক্স পড়ে ছিল। দীর্ঘ সময় মরদেহ পড়ে থাকায় বাড়ির ভেতর থেকে পচা গন্ধও পাওয়া যাচ্ছিল।
স্থানীয়রা জানান, কামাল কাছনা এলাকার মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর দোতলা বাড়িটির নির্মাণকাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। সম্প্রতি পরিবার নিয়ে তিনি বাড়িটির দ্বিতীয় তলায় বসবাস শুরু করেন। নিচতলা ছিল প্রায় ফাঁকা। নতুন করে সেখানে বসবাস শুরু করায় প্রতিবেশীদের সঙ্গেও পরিবারের খুব বেশি ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠেনি।
শনিবার রাতে প্রীতিলতা চক্রবর্তীর বোন পূজা চক্রবর্তী ওই বাড়িতে এসে ডাকাডাকি করেন। ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হলে তিনি পুলিশকে খবর দেন।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির ফটক বন্ধ দেখতে পায়। এরপর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে খবর দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশে সহায়তা করেন। এরপর বাড়ির বিভিন্ন স্থান থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়িটির সামনে ভিড় করেন। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
রাত দেড়টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে গোয়েন্দা পুলিশ, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দল আলামত সংগ্রহ ও তদন্তে ব্যস্ত ছিল।
একটি হিন্দু পরিবারের চার সদস্যকে একই বাড়িতে এভাবে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনায় সংখ্যালঘু পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে প্রয়োজনীয় সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


