চট্টগ্রামের রাউজানে পারিবারিক মনসা মায়ের মন্দিরে ভক্তির ভান করে প্রবেশ করে প্রতিমার গয়না চুরির অভিযোগে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চুরির ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযান চালিয়ে তার বসতঘর থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার স্বর্ণ ও রুপার গয়নার সিংহভাগ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে উপজেলার চিকদাইর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সিংহ বাড়ির পারিবারিক মনসা মায়ের মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার তরুণ মুশফিকুর রহমান সিয়াম পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের কাগতিয়া গ্রামের মোটর মেকানিক মিজানুর রহমানের ছেলে। রোববার (২৩ আগস্ট) মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা আশুতোষ সিংহ বাদী হয়ে রাউজান থানায় মামলা করেন। পরে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সিয়ামকে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
নিয়মিত পূজা-অর্চনা শেষে মন্দিরের পুরোহিত অল্প সময়ের জন্য পাশের বাড়িতে যান। এ সুযোগে ওই তরুণ মন্দিরে প্রবেশ করে প্রতিমায় অর্পিত স্বর্ণ ও রুপার গয়না নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে একই দিন সন্ধ্যায় পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের কাগতিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিয়ামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের পর সিয়ামের বসতঘরের শয়নকক্ষে থাকা একটি স্টিলের আলমিরায় তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের সিংহভাগ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে রয়েছে এক জোড়া কানের দুল, একটি মাথার টিকলি, একটি লকেট ও দুটি বেলপাতা। এসব স্বর্ণালংকারের মোট ওজন দুই ভরি এক আনা এবং আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
এ ছাড়া চার ভরি ওজনের রুপার একটি গলার চেইন ও এক জোড়া নূপুর উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ১৫ হাজার টাকা।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শনিবার দুপুর ১২টা ১৩ মিনিটের দিকে এক তরুণ হেঁটে এসে মন্দিরের সামনে দাঁড়ায়। এরপর দুই হাত জোড় করে ভক্তির ভঙ্গিতে কিছুক্ষণ এদিক-সেদিক তাকিয়ে থাকে। পরে মন্দিরের গ্রিলের ফাঁক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। প্রায় তিন মিনিট পর দ্রুত মন্দির এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে সিসিটিভি ফুটেজ ও আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তার ঘর থেকে চুরি যাওয়া গয়নার সিংহভাগও উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত চুরি বলে ধারণা করছে পুলিশ।
এ ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। মন্দির ও ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা জোরদার এবং এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


