ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে দেশটিকে অতিরিক্ত পাঁচটি এস-৪০০ ‘ট্রায়াম্ফ’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। ভারতীয় বিমান বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয়সংক্রান্ত টেন্ডারের জবাবেই মস্কো এ প্রস্তাব দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

নতুন এই প্রস্তাবকে ভারত ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের অটুট কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে। কয়েক দশক ধরে প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসা দুই দেশের সম্পর্কের কেন্দ্রে রয়েছে পারস্পরিক আস্থা ও সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতা।

ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে এস-৪০০। ভারতীয় সূত্রের দাবি, ‘অপারেশন সিন্ধুর’ সময় পাকিস্তান থেকে আসা একাধিক হুমকি মোকাবিলায় এই রুশ নির্মিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল। ভারতীয় বিমান বাহিনীতে এস-৪০০-কে ‘সুদর্শন’ নামেও অভিহিত করা হয়।

কিরগিজস্তানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকেও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বৈঠকে এস-৪০০সহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষা প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

এস-৪০০ হলো দীর্ঘপাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য একটি উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর উন্নত রাডার ও বিভিন্ন পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র শত্রুপক্ষের বিমানসহ বিভিন্ন আকাশপথের হুমকি শনাক্ত ও প্রতিহত করতে সক্ষম। এর সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বলে জানা যায়।

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় বিমান কমান্ডের প্রধান এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র দাবি করেছিলেন, এস-৪০০ ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে অন্যতম দীর্ঘপাল্লার আঘাত হানতে সক্ষম। তাঁর দাবি অনুযায়ী, প্রায় ৩১৪ কিলোমিটার দূর থেকে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একটি নজরদারি বিমানকে এটি ভূপাতিত করেছিল।

২০১৮ সালে রাশিয়ার সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় ভারত পাঁচটি এস-৪০০ ইউনিট কেনার অর্ডার দেয়। এর মধ্যে চারটি ইতোমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে। বাকি ইউনিটটি চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে সরবরাহ করা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

এবারের নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর তিন বছরের মধ্যে অতিরিক্ত পাঁচটি ইউনিটের সরবরাহ শুরু হতে পারে। ‘অপারেশন সিন্ধুর’ সময় এস-৪০০-এর কার্যকারিতা দেখে ভারত আরও পাঁচটি স্কোয়াড্রন নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।

নতুন ইউনিটগুলো ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্তে মোতায়েন করে দেশটির বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামো আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে সম্ভাব্য আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

এস-৪০০-এর পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সম্ভাব্য তালিকাও ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। আলোচনায় রয়েছে এস-৫০০ ‘প্রোমিথিউস’ ব্যবস্থার যৌথ উৎপাদন, সুখোই-৫৭ই স্টেলথ যুদ্ধবিমান, কিলো শ্রেণির সাবমেরিন, ভোরোনেঝ কৌশলগত আগাম সতর্কীকরণ রাডার এবং সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমানের আধুনিকায়ন প্রকল্প।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version