ভারত ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে মস্কোয় বৈঠকে তিনি ভারতকে জ্বালানি, সারসহ প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে দুই দেশের বাণিজ্য, জ্বালানি, পারমাণবিক সহযোগিতা, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দুই দিনের সফরে থাকা পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর গত সোমবার (২৪ আগস্ট) মস্কোয় প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ভারত-রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, বৈঠকে পুতিন ভারতীয় কৃষক ও কৃষি খাতের চাহিদা পূরণে প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ভারতকে জ্বালানি, সারসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্য সরবরাহ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে রাশিয়া প্রস্তুত। ফলে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে জ্বালানি ও কৃষিখাত গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
বৈঠকের আগে রাশিয়ার ফার্স্ট ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার দেনিস মানতুরভের সঙ্গে ভারত-রাশিয়া আন্তসরকার কমিশনের ২৭তম বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন জয়শঙ্কর। সেখানে বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
তবে দুই দেশের বাণিজ্যে ক্রমবর্ধমান ভারসাম্যহীনতার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। ভারত বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও টেকসই করার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা ও ব্যক্তিগত বার্তা পৌঁছে দেন জয়শঙ্কর। তিনি জানান, আসন্ন সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলন এবং সেপ্টেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে মোদি আগ্রহী।
পুতিনও ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গত বছর দুই দেশের বাণিজ্যে কিছুটা পতন দেখা গেলেও চলতি বছর তা আবার বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার, সংসদ, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন পর্যায়ে দুই দেশের সহযোগিতা ক্রমেই আরও বিস্তৃত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে নানা পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্কের মূল ভিত্তি অটুট রয়েছে। প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, সার, পারমাণবিক শক্তি, বাণিজ্য ও কৌশলগত সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরতা ভবিষ্যতেও সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে পারে।
বৈঠকে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জয়শঙ্করের এই সফরকে ভারত-রাশিয়ার ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও কৌশলগত অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


