শ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ কাচারিবাড়ির বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একসময় ইতিহাস ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে পরিচিত এ স্থাপনাটি এখন অযত্ন-অবহেলায় জীর্ণ হয়ে পড়েছে। ভবনের বারান্দা ও আশপাশের অংশ গবাদিপশু রাখার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার দৃশ্য স্থানীয়দের পাশাপাশি দর্শনার্থীদেরও হতাশ করছে।
শিলাইদহ কুঠিবাড়ির অদূরে অবস্থিত এই কাচারিবাড়ি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জমিদারি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা। অথচ বর্তমানে সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার সুযোগে ভবনের বারান্দা ও খোলা অংশে গরু-ছাগল বেঁধে রাখা হচ্ছে, যা ঐতিহাসিক স্থাপনাটির মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করছে।
জানা গেছে, মাত্র দুই বছর আগে প্রায় ৯৩ লাখ টাকা ব্যয়ে কাচারিবাড়িটির সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল। সংস্কারের আওতায় ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত ছাদ মেরামত, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নান্দনিকতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সংস্কারের পর প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ও নিয়মিত তদারকির অভাবে সেই উদ্যোগের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক বছর আগেও কাচারিবাড়িটি পরিচ্ছন্ন ও দর্শনার্থীবান্ধব ছিল। বর্তমানে সেখানে নিরাপত্তাকর্মীর উপস্থিতি ও প্রশাসনিক নজরদারি না থাকায় ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ধীরে ধীরে অবহেলার শিকার হচ্ছে। তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা এবং ঐতিহাসিক স্থাপনাটির মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ঐতিহ্য সংরক্ষণসংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু সংস্কার করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বরং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিই এমন ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের মূল চাবিকাঠি। অন্যথায় কোটি টাকার সংস্কার প্রকল্পও দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারে না।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত এই ঐতিহাসিক স্থাপনার বর্তমান চিত্র দেশের ঐতিহ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। সংস্কৃতিপ্রেমী মহলের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে শিলাইদহ কাচারিবাড়ির হারানো মর্যাদা ফিরিয়ে আনা হবে।


