৩৬ হাজার কিলোমিটার ওপরে ‘আকাশচোখ’ EOS-05, নতুন ইতিহাস ISRO-এর

মহাকাশ গবেষণায় আরও এক বড় সাফল্য পেল ভারত। ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ভোরে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ISRO সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে ‘আকাশচোখ’ EOS-05 পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ। GSLV-F17 রকেটের মাধ্যমে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে উপগ্রহটি উৎক্ষেপণ করা হয়। ISRO-এর নিজস্ব তথ্যেও উৎক্ষেপণটি সফল হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রায় ২ হাজার ৩৬৭ কেজি ওজনের EOS-05 জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথে কাজ করবে। প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতা থেকে ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পর্যবেক্ষণে সক্ষম এই উপগ্রহকে দেশটির মহাকাশ নজরদারি ও পৃথিবী পর্যবেক্ষণ সক্ষমতায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কৃষি, বন, নগর পরিকল্পনা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং জাতীয় নিরাপত্তায় এর তথ্য কাজে লাগানো যাবে।

এই সাফল্যের আরেকটি তাৎপর্য হলো GSLV-F17 মিশনটি দীর্ঘ বিরতির পর GSLV-এর প্রত্যাবর্তন। ২০২২ সালের পর এটি GSLV-এর প্রথম উৎক্ষেপণ। ফলে সফল মিশনটি শুধু নতুন উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানো নয়, ভারতের ভারী উৎক্ষেপণ সক্ষমতার ওপর আস্থাও পুনরুদ্ধার করেছে।

ভারতের মহাকাশ সাফল্য অবশ্য EOS-05-এ থেমে নেই। ২০২৩ সালে চন্দ্রযান-৩ চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি সফল অবতরণ করে ভারতকে চাঁদে সফলভাবে অবতরণকারী বিশ্বের চতুর্থ দেশ এবং ওই অঞ্চলে প্রথম সফল অবতরণকারী দেশ হিসেবে ইতিহাস গড়েছিল। এই সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালে American Institute of Aeronautics and Astronautics (AIAA) ISRO-কে তাদের Goddard Astronautics Award প্রদান করেছে।

আর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়- যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি সহযোগিতাও করছে। NASA ও ISRO-এর যৌথ NISAR মিশন পৃথিবীর ভূমি ও বরফের সূক্ষ্ম পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের জন্য তৈরি হয়েছে এবং ২০২৫ সালে এটি উৎক্ষেপণ করা হয়। নির্দিষ্ট কিছু প্রযুক্তি, বিশেষ করে চন্দ্র অনুসন্ধান, সাশ্রয়ী মিশন পরিচালনা এবং নিজস্ব উৎক্ষেপণ প্রযুক্তিতে ভারতের দ্রুত অগ্রগতি আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version