ইউক্রেন ও ন্যাটোকে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সামরিক সহায়তার বিপরীতে ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে অর্থ ফেরত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে মিত্র দেশগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত বাড়ানোর ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইউক্রেন ও ন্যাটোকে যুক্তরাষ্ট্র যে বিপুল পরিমাণ সামরিক সহায়তা বিনা মূল্যে দিয়েছে, সেই ব্যয়ের দায় মূলত ইউরোপের বহন করার কথা ছিল। এখন ওই অর্থ ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে ফেরত নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেন ও ন্যাটোর জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে। তাঁর প্রশাসন এখন এসব ব্যয়ের আর্থিক দায় মিত্র দেশগুলোর ওপর আরও বেশি করে চাপিয়ে দেওয়ার পথ বেছে নিচ্ছে।

এর পাশাপাশি মিত্র দেশগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রেও সাময়িক বিরতির ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র আপাতত নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতে অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত বাড়াচ্ছে। তবে এই স্থগিতাদেশ দীর্ঘমেয়াদি নয় এবং শিগগিরই মিত্রদের কাছে অস্ত্র বিক্রি আবার শুরু হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্পের এমন বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ও প্রতিরক্ষা বাণিজ্য নীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে সামরিক ব্যয়ের ভার ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে।

এদিকে ইউক্রেন ও ইরানের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।

তিনি বলেন, উভয় সংঘাতই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে এবং এর প্রভাব পড়ছে জ্বালানির দামের ওপর। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সরবরাহব্যবস্থায় আরও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version