মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যে যুদ্ধবিরতি সমঝোতা হয়েছিল, তা এখন আর কার্যকর নেই। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, “আজ রাতেই আমরা তাদের ওপর খুব শক্ত আঘাত হানতে যাচ্ছি।”
বুধবার (৮ জুলাই) আঙ্কারা-এ অনুষ্ঠিত North Atlantic Treaty Organization-এর শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোডিমির জেলেনস্কি-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে যাওয়ার আগে তিনি বলেন, ইরান প্রতিনিয়ত যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে এবং সেই কারণেই যুক্তরাষ্ট্র কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত।
ট্রাম্প বলেন, “আমি আগাম সতর্ক করে দিচ্ছি, আমরা তাদের ওপর বড় ধরনের আঘাত হানব।” তবে সম্ভাব্য হামলার ধরন, লক্ষ্যবস্তু কিংবা যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে কি না—এসব বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও অভিযোগ করেন, ইরানের নেতৃত্ব চুক্তির প্রতি আন্তরিক নয় এবং তারা বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে। তার ভাষায়, “চুক্তির আওতায় তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। তবে নতুন কোনো চুক্তি হবে কি না, আমি জানি না। সত্যি বলতে, চুক্তি ছাড়াই বিষয়টি আমাদের জন্য আরও সহজ হতে পারে। কারণ তারা শুধু মিথ্যা বলে এবং প্রতারণা করে।”
এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির সমঝোতা কার্যত শেষ হয়ে গেছে। তার এই বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারির পরও যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কোনো সামরিক অভিযান শুরু করবে কি না কিংবা কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ এখনও রয়েছে কি না-সে বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়নি।


