সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রতা ও জঙ্গীবাদের বেড়ে চলা একটি গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়েউঠেছে। আমাদের এই প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত লেখকরা সাধারণত একক লেখা প্রকাশ করেন, কিন্তু এবারআমরা ১৪ জনের ছোট-দৈর্ঘ্যের অভিজ্ঞতা ও বিশ্লেষণ একত্র করেছি। যদিও এগুলো স্বতন্ত্র, এককভাবেপ্রকাশ করলে হয়তো পুরো চিত্র ফুটে উঠত না, সামষ্টিকভাবে এগুলো বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ওসামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

এই লেখাগুলোতে উঠে এসেছে:

• সাম্প্রতিক উগ্র ইসলামী দলগুলোর উত্থান ও তাদের প্রভাব

• সংখ্যালঘু, নারী, সমকামী ও নাস্তিকদের ওপর হুমকি ও সহিংসতা

• ধর্মের রাজনৈতিকীকরণ এবং নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের চিত্র

• বাংলাদেশের ভবিষ্যত ও উদার, ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ গঠনের প্রয়োজনীয়তা

এই প্রবন্ধগুলো পাঠকের সামনে তুলে ধরে একটি গভীর, সতর্কবার্তা: কিভাবে ধর্মীয় উগ্রতা এবং জঙ্গীবাদদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গঠনকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

নিম্নে তাদের স্বতন্ত্র অভিজ্ঞতা ও বিশ্লেষণগুলো তুলে ধরা হলো:

আবু সায়েদ ( ২৭,দড়িকান্দি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

দিপু চন্দ্র দাস—একজন মানুষ, একজন নাগরিক, একজন সংখ্যালঘু। ধর্মের নামে উন্মত্ততার উল্লাসেতাঁকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে—এটি কোনো “বিচ্ছিন্ন ঘটনা” নয়; এটি আমাদের সমাজেদীর্ঘদিন ধরে জমে ওঠা বিষের বিস্ফোরণ।

ইসলাম শান্তির ধর্ম -এ কথা কি এখনও আমাদের বিশ্বাস করতে হবে ? যে ধর্ম বিশ্বাস মানুষকে পিটিয়ে ও পুডিয়ে হ্ত্যা করতে শিখায়, যে ধর্ম রাষ্ট্র ও সমাজে ভয় ও আধিপত্য কায়েম করে – আধুনিক সভ্য যুগেতার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে । ধর্ম বিশ্বাসের সীমানা যদি আমরা নির্ধারণ করতে নাপারি তবে ধর্মীয় উগ্রতা আমাদের সমাজকে আবার ও অন্ধকার যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। 

সরকারের ব্যর্থতা এখানে অনস্বীকার্য। সংখ্যালঘু নির্যাতনের পর একই বিবৃতি, একই আশ্বাস—কিন্তুকার্যকর বিচার নেই, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নেই। অপরাধীরা জানে, তারা ধরা পড়লেও ছাড় পেয়ে যাবে। এইদায়মুক্তির সংস্কৃতিই আজ দিপু চন্দ্র দাসের রক্তে আরও শক্ত হয়েছে।

সবচেয়ে ভয়ের বিষয়, আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের ভয়াবহ পতন। প্রতিবেশী যখন প্রতিবেশীরমৃত্যুতে নীরব থাকে, যখন গুজবের আগুনে মানুষ পুড়ে আর সমাজ নির্বিকার থাকে—তখন প্রশ্ন উঠে: আমরা কেমন সমাজে বাস করছি? মানুষ হওয়াটাই কি এখন অপরাধ?

আফরোজা খানম চৌধুরী (৩৭, কোতয়ালীকুমিল্লা

গত মাসে শরীয়তপুরে ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস নামে এক ব্যক্তিকে রাতের অন্ধকারে পেটানো, ছুরিকাঘাত, এবং অবশেষে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে—এটি আর কোনো সাধারণ সহিংসতা নয়; এটি ধর্ম, গুজব ও উগ্রতার সঙ্গে সংযুক্ত মানবিক বিপর্যয়ের অরেকটি নিদর্শন। ধর্মীয় উগ্রতা যে আমাদেররাষ্ট্রকে গ্রাস করেছে এ ঘটনা সেই সত্যকে আবার ও প্রমাণ করল। 

আমি একজন নারী হিসেবে প্রতিদিনই দেখি—আপনি যদি সংখ্যালঘু হন বা ভিন্নমতাপন্ন হন, তাহলেনিরাপত্তা কোথায়? এই ধরনের বর্বরতা সমাজের ভিতরে ভয়, অবিশ্বাস এবং বিভাজন তৈরি করে। এটিশুধু একটি ব্যক্তির মৃত্যু নয়; এটি একটি পুরো জঘন্য শিকড়ের পুনরুত্থান।

আমার অভিজ্ঞতায়, আমরা যখন সংস্কৃতি, নারী অধিকার এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়াই, তখনই প্রবল প্রতিরোধের মুখোমুখি হই। কিন্তু ধর্মীয় উগ্রবাদ বা গুজব কখনো শান্তি বা ন্যায়ের পথদেখায় না। আমাদের উচিত—যারা ক্ষতিগ্রস্ত তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সমাজকে ধর্মীয় উগ্রতাথেকে মুক্ত করে মানবিকতার পথে ফিরিয়ে আনা।

আল ইমরান আহমেদ ( ২৬,ওসমানী নগরসিলেট)

আমি মনে করি—রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ধর্মীয় উগ্রবাদ একসাথে মিললে সমাজে ভয়াবহ প্রভাব পড়ে।সম্প্রতি জাতীয় সিটিজেন পার্টি (NCP) যখন জামায়াতএর মতো ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে জোট ঘোষণাকরেছে, তখন তা দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ ইঙ্গিত তৈরি করেছে।

এই সিদ্ধান্তে অনেক প্রবীণ ও তরুণ নেতা পদত্যাগ করেছেন, কারণ তারা মনে করছেন এটি একটি উগ্রধর্মীয় শক্তিকে ক্ষমতায় আনতে সাহায্য করছে। জামায়াতের মত একটি উগ্র সন্ত্রাসী সংগঠন যেটি২০১৩ সাল থেকে নির্বাচনে নিষিদ্ধ ছিল, এবার তারা ক্ষমতার মসনদে বসতে পেতে পারে—এটি রাষ্ট্রীয়চিন্তার গভীর সংকটের ইঙ্গিত দেয়।

আমি ভাবি—ধর্ম যখন রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন তা সমাজের মুক্তচিন্তা, বিচারবোধ ওসাংস্কৃতিক স্বাধীনতার ওপর ঝুঁকি সৃষ্টি করে। ধর্ম কখনো সহিংসতার জন্য সৃষ্টি  করা হয়নি; ধর্মেরউদ্দেশ্য ছিল সমাজকে নিয়ন্ত্রিত রাখা, দুর্বল ও অসহায়কে নিরাপত্তা দেয়া কিন্তু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেএটি ব্যবহার করার ফলে আজ মানুষের অধিকার, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা এবং নাগরিক মর্যাদা ক্ষুন্ন হচ্ছে। 

আসাদুর রহমান দিপু (৩৪মৌলভীবাজার

২০২৫ সালের ৭ মার্চ ঢাকা পুলিশ ও সেনাবাহিনী একটি নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের মিছিলে বাধাদেয় এবং টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এই ঘটনাটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, যখন ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক দাবি ও সংগঠিত কর্মসূচিরসঙ্গে মিলিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় প্রকাশ করা হয়, তখন রাষ্ট্রকে অনিবার্যভাবেই কঠোর নিরাপত্তামূলকঅবস্থানে যেতে হয়। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাধ্য হয়—এটিপছন্দের প্রশ্ন নয়, বরং রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ও নাগরিক নিরাপত্তার দায়বদ্ধতা

এই প্রেক্ষাপটে হিযবুত তাহরীর নিজেদের ‘শান্তিপূর্ণ’ সংগঠন হিসেবে উপস্থাপন করলেও বাস্তবে তাদেরমিছিল, স্লোগান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থায় বিভাজন সৃষ্টি করারপ্রবণতা দেখিয়েছে। এ ধরনের কার্যক্রম কেবল মতপ্রকাশের সীমায় আবদ্ধ থাকে না; বরং তা সামাজিকউত্তেজনা বাড়ায়, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে এবং সহিংসতার জন্য অনুকূলপরিবেশ তৈরি করে।

আমি মনে করি, সমাজে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের স্বাধীনতা থাকা উচিত—কিন্তু যখন কোনো গোষ্ঠী ধর্মকেব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাইরে চলে যেতে চায়, তখন সেটি রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়ের জন্যই বড় হুমকিহয়ে দাঁড়ায়। আমাদের উচিত—ধর্মকে রাজনৈতিক অস্ত্র নয়, ব্যক্তিগত বিশ্বাস হিসেবে সম্মান করা এবংসংঘাত রোধে আইন ও সামাজিক সংলাপকে প্রাধান্য দেয়া। আমাদের বাংলাদেশকে আমরা কোন ভাবেইআফগানিস্থান বা ইরানের মত কট্টরপন্থি রাষ্ট্রে পরিনত হতে দিতে পারি না।

বগদাদ পিয়ারী রবি (৪৬, কোতওয়ালিকুমিল্লা

আমি সম্প্রতি লক্ষ্য করছি যে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগক্রমেই গভীর হচ্ছে। বিশেষ করে একটি ভয়াবহ গণহিংসার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যভাবে কঠোর মন্তব্যকরে নিন্দা জানিয়েছে—যেখানে ধর্মীয় সহিংসতা ও ঘৃণার রাজনীতি সামাজিক উত্তেজনাকে বিপজ্জনকমাত্রায় নিয়ে গেছে।

এই ধরণের আন্তর্জাতিক চাপ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—দেশের ভেতরে যদি সংখ্যালঘু বা সাধারণনাগরিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা কম হয়, তা আন্তর্জাতিকভাবে দেখা হয় এবং দেশীয় ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্নকরে । ধর্মের নামে দমনপীড়ন কখনোই সামাজিক স্থিতিশীলতা দেয় না।

আমি মনে করি—যখন ধর্মের নামে ঘৃণা, সহিংসতা বা বিভাজন সৃষ্টি করা হয়, তখন সমাজে বিপর্যয় আসে। আমাদের উচিত—ধর্মকে একটি মানবিক ও নৈতিক পথ হিসেবে দেখা, রাজনৈতিক শক্তি হিসেবেনয়।

জান্নাতুন নাইম জান্নাত (২৬, শাহপরানসিলেট)

আমি যখন সমাজে সহিংসতার সংখ্যা সম্পর্কে পড়েছি, বিশেষ করে ধর্মীয় ও সংখ্যালঘু বিরোধীঘটনাগুলোর পরিসংখ্যান, আমার হৃদয় দগদগে হয়ে ওঠে। একটি সংস্থা বলছে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালেরমাঝামাঝি সময় পর্যন্ত অন্তত ৪৩২টা সংখ্যালঘুবিরোধী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে—এটি শুধুই একটিসংখ্যা নয়, এটি মানুষের জীবনের ভাঙন।

এই আক্রমণগুলোর ভেতর রয়েছে ঘর ও প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, ভয়ভীতি, হত্যা কিংবা ধর্মীয় স্থানের উপরআক্রমণ। সমাজের ভেতরে যখন এমন আচরণ চলে, তখন নারীর নিরাপত্তা ও জীবনের মান আরস্বাভাবিক থাকে না। আমার মত একজন নারী হিসেবে বলতে পারি—এই ধরনের হামলা শুধু নির্দিষ্টগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে না, এটি সমাজের নৈতিক ভিত্তিকেও আঘাত করে।

আমি বিশ্বাস করি—ধর্মীয় উগ্রতা মোকাবিলা করতে হলে সমাজের প্রতিটি স্তরেই সহনশীলতা, শিক্ষা ওমানবিক মূল্যবোধের প্রচার বাড়াতে হবে। ইসলামের নামে, ইসলামি শাসন কায়েমের নামে সংখ্যালঘু, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীদের উপর যেভাবে হামলা হচ্ছে, এটা লজ্জাজনক। ধর্মান্ধতা, ধর্মীয় উন্মাদনা ধংসছাড়া কিছু ডেকে আনে না । আওয়ামি লীগের পতনের পর আমি উচ্ছ্বাসিত ছিলাম কিন্তু ইসলামের নামেদুঃশাসন,ঘৃণা ছড়ানো মেনে নেয়া যায় না। নাস্তিক, সমকামীম সংখ্যালঘুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতেহবে যে কোন মূল্যে। জঙ্গিবাদের স্থান বাংলাদেশে হতে দেয়া যাবে না । 

মোঃ আব্দুর রহমান (৩৩, ফেনী)

২০২৫ সালের জুন মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সারাইল উপজেলায় একটি খুবই ভীতিকর ঘটনা ঘটেছে — স্থানীয়রা এক হিজড়া (যিনি লিঙ্গবৈচিত্র্যের সদস্য) সহিংসভাবে বাড়িতে আগুন দিয়ে হত্যা করে ও তারসম্পদ লুটপাট করে। এই ঘটনাটি ধর্মীয় উগ্রতার হাতিয়ার এবং বৈষম্যের বাস্তব ছবি।

আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি—সমাজে যদি নারীরাও নিরাপদ না থাকে এবং লিঙ্গবৈচিত্র্যের মানুষেরাওরাস্তায় মুখ খুলতে না পারে, তবে সেই সমাজ শান্তি বলতে কিছুই নেই। এটি শুধু ব্যক্তিগত জীবনের ক্ষতিনয়; এটি মানবিক মর্যাদা ও আইনের প্রতি জনবিশ্বাসের ভাঙন।

যে সংখ্যালঘুরা নিজেদের পরিচয় ও জীবন ভালোবেসে বাঁচতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা একটিমানবাধিকার লঙ্ঘন। আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজকে এমনভাবে গঠন করতে হবে যাতে মানুষের মৌলিকস্বাধীনতা ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে।

মোঃ রাকিবুল হাফিজ (৩৪, বোয়ালিয়ারাজশাহী)

আমি একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে দেখেছি—২০২৪ সালে বাংলাদেশে প্রায় ৭০টিঘটনায় মোট ৩৯৬ জন সমকামী ও লিঙ্গবৈচিত্র্যসম্পন্ন মানুষ সহিংসতার শিকার হয়েছেন।

এই প্রতিবেদন কেবল একদুইটি ঘটনার পরিসংখ্যান নয়; এটি দেখায় যে ধর্মীয় মৌলবাদ, সামাজিকবৈষম্য ও প্রশাসনিক অনাগ্রহ জেন্ডার ও যৌন বৈচিত্র্যের মানুষের উপর কী বিপজ্জনক চাপ সৃষ্টি করছে।আইনি ক্ষেত্রে ধারা ৩৭৭ -এর কারণে সমকামী সম্পর্ক আজও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়—এটিসমাজের বৈষম্যকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দিয়েছে।

আমি মনে করি—ধর্ম কখনো নাগরিক অধিকার ও মর্যাদা দমন করার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে না।সমান অধিকার, মানবিক সম্মান ও নিরাপত্তা ছাড়া কোনো সমাজই উন্নত বা স্থিতিশীল হতে পারে না।

মোঃ রাশেদুজ্জামান সরকার ( ৪৩বাঘারাজশাহী)

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫-এর প্রথম দিকে পর্যন্ত প্রায় ২৩টি হত্যা, ১৭৪টা সহিংস ও সম্প্রদায়িক আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে—এগুলি শুধু সংখ্যা নয়; এগুলো মানুষের জীবন, পরিবার ওসমাজের ভিত্তি পরিকল্পিত ভাবে ভেঙ্গে ফেলা নির্দেশ করে।

আমি দেখি—এই সহিংসতা কেবল ‘ধর্মীয় বিবাদ’ নয়, বরং রাজনৈতিক উত্তেজনা, গুজব ও অসহিষ্ণুমনোভাবের ফল। ধর্ম বিশ্বাস মানুষকে উগ্র করে তোলে আরে সেই ধর্ম বিশ্বাসকে যখন রাজনৈতিক অস্ত্রবানানো হয়—তখন ঘৃণা ও সহিংসতা জন্ম নেয়।

আমরা যদি সত্যিই একটি মুক্ত, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ চাই, তাহলে আমাদের সমাজেসহনশীলতা, নাগরিক অধিকার ও আইনশৃঙ্খলার প্রতি সম্মান ফিরিয়ে আনতে হবে। সকল প্রকার ধর্মীয়রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। বিশ্বেসকরে, ইসলামি জঙ্গিবাদ নির্মুল করতে না পারলে আমাদের জন্যএকটি ভয়াবহ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে । 

১০মিজানুর রহমান (৫০, বাঘারাজশাহী)

আমি যখন পুলিশ ও মানবাধিকার সংস্থাএর পরিসংখ্যান দেখি, মনে হয়—বাংলাদেশে ধর্মীয় ওসংখ্যালঘু বিরোধী আক্রমণের সমস্যাটা সম্প্রতি আরও প্রকট হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত অন্তত 2,010টি সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এটা শুধু একটি গণমাধ্যমের রিপোর্ট নয়; এটি বাস্তব মানুষদের ক্ষতি ও নিরাপত্তাহীনতার পরিসংখ্যান।সংখ্যালঘুদের বাড়ি, ব্যবসা, উপাসনাস্থল — সব জায়গায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাঘটেছে। এই ধরনের ধর্মীয় উগ্রতা যদি আমাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোতে ঢুকে পড়ে, তবেআমাদের ভবিষ্যৎ নরকের মতো হবে।

আমি মনে করি—মানুষের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো সমাজই শান্তিতেথাকতে পারে না। আমাদের উচিত—আইনি কাঠামো ও সামাজিক সংলাপকে শক্ত করা যাতে ধর্মীয়সহিংসতা সমূলে দমন করা যায়। বাংলাদেশ কি ধর্মীয় জঙ্গিদের হাতে চলে যাবে না কি আমরা ধর্মীয়উগ্রাতার বিরুদ্ধে লড়াই করে একটি প্রগতিশীল, ধর্মনিরোপেক্ষ ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলব সে সিধান্তআমাদেরকেই নিতে হবে । 

১১মহিউদ্দিন মিয়া (২৭, বোয়ালমারীফরিদপুর)

আমি যখন দেখি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সহিংসতার খবরগুলো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠেআসছে—বিশেষ করে সংখ্যালঘু হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনা—তা আমাকে ভাবায় যে এ পরিস্থিতিকেবল দেশগত নয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ইস্যুতে পরিণত হচ্ছে। এমনকি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেআন্তর্জাতিক প্রতিবাদও উঠেছে।

ঢাকাসহ দেশজুড়ে নারী, সংখ্যালঘু সমকামী ও মানবাধিকার কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপবাড়ছে। এটি আমাদের জন্য একটি গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।সমগ্র পৃথিবী যখন ধর্ম বিশ্বাসেরঅন্ধত্ব থেকে বেরিয়ে এসে মানবতার আলোতে উদ্ভাসিত তখন আমাদের বাংলাদেশকে মওলানা মুফতিহুজুরেরা হাজার বছর অতীতের অন্ধকার যুগে ফিরিয়ে নিতে চায়। 

আমি মনে করি -অবিলম্বে ধর্মের নামে বাটপারী, রাজনীতি ও সহিংসতা বন্ধ করা প্রয়োজন -এইগুরুত্বপূর্ণ সত্যটি উপলব্দধি করতে ইউনুস সরকার ব্যর্থ। অথবা বলা যেতে পারে  এই সরকারমৌলবাদীদের হাতে জিম্মি । 

১২মুহাম্মদ জাকির হোসেইন (৪৬, গোসাইরহাটশরীয়তপুর)

আমি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখতে পাই—ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উত্তেজনাপ্রতিনিয়ত সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে এবং তা মানবাধিকার ও নাগরিক নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলছে।উদাহরণস্বরূপ, দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘুদের বাড়িতে হামলা ও ধর্মীয় স্থানের বিরুদ্ধে আক্রমণহওয়া—এগুলো শুধু অপরাধ নয়, আমাদের সমাজের ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জ করছে।

এই সহিংসতার পরিসংখ্যান — শতকরা বহু মানুষ মৃত, অসংখ্য সম্পত্তি নষ্ট — এটি আমাদের মনেকরিয়ে দেয় যে সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের জায়গাটা কতটা ক্ষীণ হয়ে গেছে। আমি মনে করি, ধর্ম, রাজনীতি ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা না হলে এ ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটতে পারে।

আমি মনে করি মানুষের জন্য ধর্ম, ধর্মের জন্য মানুষ নয়। মানুষ একসময় যখন সামাজিক ও সভ্যতায়পিছিয়েছিল, সমাজে মানবিক মূল্যবোধ বলতে কিছু ছিল না তখন ধর্মের প্রাসঙ্গিকতা ছিল। আধুনিকসভ্য সমাজ ও উন্নত রাষ্ট্র ব্যবস্থায় ধর্মের কোন স্থান থাকতে পারে না। 

১৩সাদিয়া শারমিন আয়েশা (১৯, শাহপরানসিলেট)

আমি একটি মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্ট দেখে বিব্রত হয়েছি—যেখানে বলা হয়েছে—২০২৪ সালেবাংলাদেশে প্রায় ৪০০ জন এলজিবিটি বা যৌনলিঙ্গবৈচিত্র্যসম্পন্ন মানুষ সহিংসতার শিকার হয়েছেন।

এটা শুধু সংখ্যার কথা নয়; এটি মানুষের জীবন, মর্যাদা ও স্বপ্নের ক্ষতি। সমাজ যখন একটি গোষ্ঠীকেশারীরিক, সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে বৈষম্যের মুখে ফেলে, তখন তার কাছে সমানাধিকার, সম্মান ওনিরাপত্তা থাকে না। এমনকি আইনি বাধা যেমন বাংলাদেশ দন্ডবিধির ধারা ৩৭৭—এদের জীবনকেআরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। 

আমি মনে করি—ধর্মীয় অনুভূতি যতই শক্তিশালী হোক, তা কখনো মানুষের অস্তিত্ব ও মানবিক মর্যাদাদমন করতে পারে না। একটি রাষ্ট্র যখন কিছু নাগরিককে অপরাধী হিসেবে ধরে—তবে সে সমাজেমানবিকতার জায়গা কোথায় থাকে?

মানুষের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও সম্মান—এগুলোই একটি সমাজের বাঁচার শক্তি। বাংলাদেশকে সেই দিকেএগিয়ে নিতে আমাদের এখনই শক্তিশালী অবস্থান নিতে হবে।

১৪মোঃ মুরাদ হোসেন (৫০, আতাইকুলাপাবনা

গত এক বছর ধরে বাংলাদেশে যে সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা আমি গভীরভাবেপর্যবেক্ষণ করেছি এবং ভাবতেই ভয় লাগে সম্প্রতি আমাদের রাজধানীতে ধর্মীয় উগ্রপন্থিদের যেঅবিশ্বাস্য উত্থান, তারা যেভাবে প্রকাশ্যে খিলাফাহ প্রতিষ্ঠার ডাক দিচ্ছে মনে হতে পারে আমি মুক্তিযুদ্ধেরবাংলাদশে নয় বরং ইসলামি জঙ্গিদের আফগানিস্থান বা পাকিস্থানকে দেখছি। 

ধর্ম অবমাননার গুজব কাজে লাগিয়ে কথিত মব সৃষ্টি করে সংখ্যাল্ঘু সম্প্রদয়ের মানুষকে পিটিয়ে, পুড়িয়েহত্যা করার মত নৃশংস ঘটনাগুলো নিঃসন্দেহে ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটাবে যাআমাদের আঞ্চলিক নিরপত্তা হুমকির মুখে ফেলবে। সরকারের নিষ্ক্রিয়তা প্রমাণ করে তারা দেশ ও জনগনের নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থ । ধর্মীয় জঙ্গিগোষ্ঠীর সাথে তাদের গোপন বোঝাপড়া আছে কি না সেপ্রশ্নও তোলার সুযোগ আছে ।  

আমি এই পরিস্থিতিকে শুধু রাজনৈতিক গোলযোগ হিসেবে দেখি না; বরং এটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিকস্বাধীনতার বিরুদ্ধে একটি উল্লেখযোগ্য বিপদ। ধর্ম কখনোই হিংসা, বিচ্ছিন্নতা বা অপব্যাখ্যার হাতিয়ারহতে পারে না। মানুষ ধর্মকে নিজের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য গ্রহণ করে, কিন্তু যখন সেটিরাজনীতির অস্ত্র হয়ে ওঠে—তখন সমাজের ভেতরে ভয়, বিভাজন ও সন্দেহ জন্মায়।

আমি মনে করি, বাংলাদেশের সত্যিকারের শক্তি হলো তার বৈচিত্র্য, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ।আমাদের উচিত ধর্মকে রাজনৈতিক অনুসন্ধানের হাতিয়ার না বানিয়ে, বরং এটি ব্যক্তি বিশ্বাসেরজায়গায় রাখা—যেখানে সেটা মানুষের আচরণ ও সহমর্মিতাকে সমর্থন করে। না হলে দেশের ভবিষ্যৎশুধু রাজনৈতিক সংঘাতের দিকে এগোবে, মানবিক মূল্যবোধের দিকে নয়।

আমরা নিম্ন লিখিত ব্যক্তিগন বর্তমান বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রবাদের যে আগ্রাসন চলছে তার বিরুদ্ধে তীব্রপ্রতিবাদ জানাই এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বের Human Rights বিরুদ্ধে বাংলাদেশের পেনাল কোড ১৮৬০ সালে ৩৭৭ নং ধারা রদ রোহিতকরণ এবং সূরা নাস্ এর আলোকে নারীদের কে সমান অধিকার থেকে বঞ্চিত করে ১৯৯৬১ সালে যে শরিয়া আইন তৈরী করা হয়েছে আমরা তার রদ রোহিতকরণ এবং বাতিল চাই ।

               ইয়াংটাইগার গ্রুপ: 

১. আবু সায়েদ (১৭, দাড়িকান্দি, ব্রাক্ষণবাড়িয়া)
২. আফরোজা খানম চৌধূরী ৩৭, কোতয়ালী কুমিল্লা)

৩. আল ইমরান আহমেদ (২৬) ওসমানীনগর, সিলেট ।
৪. আসাদুর রহমান দিপু (৩৪),মৌলভীবাজার।
৫. বগদাদ পিয়ারী রবি (৪৬), কোতোয়ালী, কুমিল্লা।
৬. জান্নাতুল নাঈম জান্নাত (২৬), শাহপরান, সিলেট।
৭. আব্দুর রহমান (৩৩)ফেনী।
৮. মোহাম্মদ রাকিবুল হাফিজ(৩৪), বোয়ালিয়া, রাজশাহী।
৯. মোঃ রাশেদুজ্জামান সরকার (৪৩), রাজশাহী।
১০ মোঃ মিজানুর রহমান (৫০),রাজশাহী।
১১. মহিউদ্দিন মিয়া (২৭) বোয়ালমারী, ফরিদপুর।
১২. মুহাম্মদ জাকির হোসেইন ৪৬, গোঁসাই রহাট, শরিয়তপুর
),
১৩. সাদিয়া শারমিন আয়েশা (১৯) ,শাহ পরান, সিলেট।
১৪. মোহাম্মদ মুরাদ হোসেন (৫০) আতাইখোলা, পাবনা।

উগ্রধর্মীয় মৌলবাদের আগ্রাসনে আজ বাংলাদেশের কানায় কানায় পরিপূর্ণ । বর্তমানে বাংলাদেশে আইয়ামে জাহেলীয়াত যুগের থেকেও বেশী মানুষ নিপিরণ, নির্যাতন ও অশ্লিল কাম লালসার শিকার হচ্ছে। বিশ্বশান্তির বানী নিয়ে নবী মুহাম্মদ ধর্মের যে বিষবৃক্ষ আজ থেকে ১৪০০ বছর পূর্বে আরবের মরুভূমিতে রোপন করে ছিল তা আজ সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে কিছু ইসলামী ধর্ম ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে, (যেমন জামায়াতে ইসলাম, হেফাজতে ইসলাম, চরমোনাই ইত্যাদি), ছড়িয়ে পরছে।
ইসলাম মানে শান্তি হলে সৃ্স্টির শুরু থেকেই লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বিপন্ন করাই এই ধর্মের মূল উদ্দেশ্য এবং নিজেদের হীন শার্ত উদ্ধার, কাম লালসা পূর্ণ করা এবং শান্তির নামে অশান্তি সৃস্টি করাই ভন্ড প্রতারক এই ধর্মের অনুসারীদের প্রধান কাজ ।
এই ধর্মের অনুসারী, রক্ষক এবং প্রাচারকরা নিজেদের স্বার্তে যে কোন অন্যায় অবৈধ কাজ করতে দিধাবোধ করে না। বর্তমানে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় বিভিন্ন মাদরাসা, হেফজখানা এমন কি মসজিদের ভিতরেও দাড়ি ওয়ালা বকধার্মীক হুজুরা চার বছরের শিশু থেকে সত্তর বছরে বৃধবা নারীকে বিভিন্ন ভাবে প্রলভন দেখিয়ে বা জোর করে ধর্ষণ করে নিজেদের হীন লোভ লালসা চারিতার্থ করেছে, এমন কি ছোট ছোট ছেলে বাচ্চা শিশুদের কেও বলতকারের শিকার হতে হয়। অবশ্য এই বকধার্মীক হুজুরদের কথা আর কি বলব এদের যে নবী মুহাম্মদ সে নিজেও তার নিজের লালসা পরিপূর্ণ করার জন্য তের জন অসহায় মহিলাদের সাথে বিবাহ নামক চুক্তিতে আবদ্ধ হন। কথিত আছে সাত বছরে শিশু আয়শাকে বিবাহ করেন শুধু তার নিজের কাম বাসনা পরিপূর্ণ করার জন্য । এই ধর্মের অন্যতম একটি খারাপ দিক হলো এখানে Human Rights বলে কিছু নেই । সারা পৃথিবীতে যেখানে নারী পুরুষের সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে সেখানে ইসলাম ধর্মে নারীকে পুরুষ থেকে অর্ধেক অধিকার দেওয়া হয়েছে । যেমন পিতার সম্পতিতে মেয়েকে ছেলের অর্ধেক সম্পতি দেওয়া হয়েছে, সুরা নার্সে বলা আছে। আমাদের মতে এই সুরার বিধান বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত করা উচিত এবং এর সাথে সম্পর্কিত যে সকল আইণ বাংলাদেশ আছে তা বাতিল করা উচিত যেমন মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১। পুরুষের সাথে পুরুষের এবং নারীর সাথে নারীর যেখানে সারা পৃথিবীতে সমকামীতার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে সেখানে বাংলাদেশ পেনাল কোডের ৩৭৭ ধারায় তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে সারা নূহ্ এর আলোকে ।
আমরা সাম্যতা ন্যায্যতার ভিত্তিতে মানুষের অধিকার চাই, নিজদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য যা প্রয়োজন তা হালাল এবং নিজেদের স্বার্থের বিরুদ্ধে গেলে তা হারাম চাই না ।
যেমন এতদিন জামায়াতে ইসলাম এবং তাদের সমমনা দল গুলো বলে এসেছে সুদ খাওয়া হারাম অথচ নিজেদের স্বার্থে বাংলাদেশের সব থেকে বড় সুদখোর ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসকে তারা নবী হিসেব মনে করে ।এই ধরনের দ্বিচারিতা সমাজ থেকে সমূলে উৎপাটন করতে চাই।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version