নতুন নোট মুদ্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যয় ৪৫৯ কোটি টাকা

নতুন টাকা ছাপাতেই এক বছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যয় বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংকনোট মুদ্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের খরচ হয়েছে ৪৫৮ কোটি ৯২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। আগের অর্থবছরে এ ব্যয় ছিল ২৩৪ কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।

অর্থাৎ মাত্র এক বছরে নোট মুদ্রণের খরচ বেড়েছে ২২৪ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি, যা প্রায় ৯৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিটরস রিপোর্ট ও অডিটেড ফাইন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্টসে এ তথ্য উঠে এসেছে।

নোট মুদ্রণে গত পাঁচ অর্থবছরের মধ্যে এবারই সর্বোচ্চ ব্যয় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে খরচ হয়েছিল ৩৩৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩৭৪ কোটি ৩ লাখ টাকা এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩৮৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

অথচ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যয় নেমে এসেছিল ২৩৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকায়। এক বছরের ব্যবধানে সেই ব্যয় লাফ দিয়ে প্রায় ৪৫৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, বিশেষায়িত কাগজ, কালি ও অন্যান্য নিরাপত্তা উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়াই ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার সংকটও এতে প্রভাব ফেলেছে।

তার মতে, ব্যাংকনোট তৈরির কাগজ ও কালি অত্যন্ত বিশেষায়িত হওয়ায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সীমিত। ফলে এসব উপকরণ কেনার ক্ষেত্রে দর-কষাকষির সুযোগও কম।

২০২৪ সালের কথিত ছাত্র আন্দোলনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতির পরিবর্তে নতুন নকশার নোট চালুর উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। বিভিন্ন মূল্যমানের নোটের নকশা পরিবর্তনের কাজও শুরু হয়।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দাবি, নতুন নকশা মুদ্রণ ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ নয়। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, নোট ছাপানোর পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লেও কাগজ, কালি ও অন্যান্য উপকরণের দাম বৃদ্ধির কারণে ব্যয় বেড়েছে।

নোট মুদ্রণের উপকরণ আমদানিতে ডলারের বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ হলেও গত এক বছরে এতে বড় পরিবর্তন হয়নি। ২০২৫ সালের জুনে আন্তঃব্যাংক গড় বিনিময় হার ছিল প্রতি ডলারে ১২২ টাকা ৭৭ পয়সা। ২০২৬ সালের জুনে তা দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৮৫ পয়সায়। অর্থাৎ এক বছরে মাত্র ৮ পয়সা পরিবর্তন হলেও নোট মুদ্রণের ব্যয় বেড়েছে ৯৫ শতাংশের বেশি।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version