কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা বর্ষণের মধ্যে ভয়াবহ পাহাড়ধসে একটি মাদরাসা মাটিচাপা পড়ে অন্তত সাতজন নিরীহ রোহিঙ্গা শিশুশিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু শিশু আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো ক্যাম্পজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ-০৩ ব্লক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যায়। হঠাৎ করেই পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পাশের মাদরাসার ওপর আছড়ে পড়ে। সে সময় মাদরাসায় অনেক শিশু কোরআন ও অন্যান্য ধর্মীয় পাঠে অংশ নিচ্ছিল। মুহূর্তের মধ্যেই ভবনটি মাটির নিচে চাপা পড়ে এবং ভেতরে থাকা শিশুরা আটকা পড়ে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় রোহিঙ্গা বাসিন্দারা খালি হাতে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। বিকেল পৌনে ৩টার দিকে ক্যাম্পের স্বেচ্ছাসেবক রফিক জানান, উদ্ধারকারীরা এখন পর্যন্ত সাতজন শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও আরও অনেক শিক্ষার্থী চাপা পড়ে থাকতে পারে।
অন্যদিকে, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার তাৎক্ষণিকভাবে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উদ্ধারকর্মীরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে মাটির স্তূপ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
যুদ্ধ, নির্যাতন ও বাস্তুচ্যুতির বেদনা বুকে নিয়ে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর জন্য এই দুর্ঘটনা যেন নতুন করে এক অসহনীয় শোক বয়ে এনেছে। নিরাপদ ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে মাদরাসায় পাঠ নিতে যাওয়া নিষ্পাপ শিশুগুলোর এমন করুণ মৃত্যু মানবিক বিপর্যয়ের আরেকটি বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে রইল।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও শিক্ষার্থী আটকা থাকার আশঙ্কায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


