ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। নিহতদের ৮ জনই বাংলাদেশি বলে নিশ্চিত করেছে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে কলকাতার নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘হোটেল শিখা ইনে’ এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার পর হোটেলের ভেতরে থাকা অতিথিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘুমন্ত অবস্থায় অনেকে চিৎকার-চেঁচামেচিতে জেগে উঠলেও ঘন ধোঁয়ার কারণে দ্রুত বের হতে পারেননি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। পরে কলকাতায় বাংলাদেশ দূতাবাস ৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে। তবে নিহত বাংলাদেশিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।

পুলিশ ও দমকল বাহিনী জানিয়েছে, হোটেলের তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয় এবং তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে অন্তত চারটি কক্ষে। রাত ৩টার দিকে আগুনের খবর পেয়ে পুলিশ ও দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ঘটনাস্থলের কাছেই দমকলের কার্যালয় থাকায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা সম্ভব হয়।

দমকল বাহিনীর চারটি ইঞ্জিন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় হোটেলের বিভিন্ন কক্ষ থেকে অন্তত ৬০ জনকে উদ্ধার করা হয়। ধোঁয়ায় আক্রান্ত হয়ে তাদের অনেকেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

দমকলকর্মীরা হোটেলের ভেতর থেকে অচেতন অবস্থায় ৯ জনকে উদ্ধার করে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের সবাইকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। অগ্নিকাণ্ডে আহত আরও কয়েকজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহত ৬ জন কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রাথমিকভাবে একটি এয়ার কন্ডিশনার (এসি) থেকে বিস্ফোরণ বা বৈদ্যুতিক ত্রুটির মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্টরা। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও দমকল বিভাগ।

হোটেলটির প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়ায় আগুন লাগার পর অতিথিদের বের হতে ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হয়। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে অনেকে কক্ষে আটকা পড়েন। উদ্ধারকারীরা পরে বিভিন্ন কক্ষ থেকে তাদের বের করে আনেন।

ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে পুলিশ। অগ্নিকাণ্ডের কারণ, হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নিয়মকানুন যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না- এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর আগে গত সোমবার সকালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বিখ্যাত তীর্থস্থান তারাপীঠ মন্দিরসংলগ্ন একটি হোটেলেও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ৮ জন নিহত ও ১৩ জন আহত হন। ঘটনার পর ওই রাতেই হোটেল মালিক ও তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version