কথিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সরকারি চাকরিতে বিশেষ সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ১০টি শহীদ ও গুরুতর আহত পরিবারের সদস্যের হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব নিয়োগপত্র হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে নিয়োগপ্রাপ্ত পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
নিয়োগপত্র পাওয়া শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন- শহীদ মো. সোহাগের স্ত্রী সাবিনা আক্তার রিমা, শহীদ মো. শাহরিয়ারের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন, শহীদ মো. আব্দুল্লাহ কবিরের স্ত্রী আফসানা আক্তার, শহীদ মো. মোস্তফা কামাল রাজুর স্ত্রী আকলিমা আক্তার, শহীদ মো. জুয়েলের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা, শহীদ মিরাজের বোন সামিয়া ইসলাম পপি, শহীদ আহসান কবিরের স্ত্রী হাফিজা আক্তার হ্যাপি এবং শহীদ ওমর নুরুল আবছারের স্ত্রী ফারজানা আক্তার রাণী।
জুলাইয়ের আন্দোলনে কোটা ব্যবস্থা সংস্কার ও পরবর্তী সময়ে তা বাতিলের দাবিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে ওঠে। সেই আন্দোলন একপর্যায়ে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হন। আন্দোলনে প্রাণ হারানো এবং গুরুতর আহত ব্যক্তিদের পরিবার পরবর্তী সময়ে নানা ধরনের সংকটের মুখোমুখি হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শহীদ ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের পুনর্বাসনের অংশ হিসেবেই সরকারি চাকরির এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারানো স্বজনদের জন্য এ নিয়োগ ভবিষ্যৎ জীবনে আর্থিক নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে।
তবে বিষয়টি ঘিরে তৈরি হয়েছে এক ধরনের গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক বৈপরীত্যও। যে আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সংস্কার ও বাতিল, সেই আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের সদস্যদেরই এখন বিশেষ ব্যবস্থায় সরকারি চাকরি দেওয়া হচ্ছে- ফলে ‘কোটা’ নিয়ে পুরোনো বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে।
একদিকে শহীদ পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তা ও পুনর্বাসনের বিষয়টি মানবিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, অন্যদিকে নিয়োগের পদ্ধতি নিয়ে স্বচ্ছতা, যোগ্যতা ও নীতিগত সামঞ্জস্যের প্রশ্নও উঠতে পারে। কারণ, আন্দোলনের মূল দাবির সঙ্গে বর্তমান সুবিধার কাঠামোর সম্পর্ক কী এবং এটি সাধারণ নিয়োগপ্রক্রিয়ার বাইরে কীভাবে কার্যকর হচ্ছে- তা নিয়ে ভবিষ্যতে বিস্তারিত ব্যাখ্যার প্রয়োজন হতে পারে।


