সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্যকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন রাষ্ট্রীয় আয়োজন করেছে ইরানের সরকার। রাজধানী তেহরানজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা, সড়ক অবরোধ এবং কোটি মানুষের সমাগমের দাবি তুলে ধরছে কর্তৃপক্ষ। তবে বাস্তবে পরিস্থিতি সরকারের প্রচারণার সঙ্গে মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক বাসিন্দা নিরাপত্তা ঝুঁকি, রাজনৈতিক অস্বস্তি এবং বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় তেহরান ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।
খামেনির শেষ বিদায়ে দেড় থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নেবেন। কিন্তু রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দোকানপাট বন্ধ, রাস্তাঘাট ফাঁকা এবং শহর থেকে বের হওয়ার পথে দীর্ঘ যানজট দেখা গেছে। স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, জনসমাগমের সরকারি হিসাব বাস্তবতার চেয়ে অনেক বেশি দেখানো হতে পারে।
খামেনির মৃত্যুর পর দেশের অর্থনীতি আরও চাপে পড়েছে বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের। মূল্যস্ফীতি, খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সংকটের মধ্যেও সরকার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে- এমন সমালোচনা করছেন অনেকে। তাদের প্রশ্ন, দুর্যোগ বা মানবিক সংকটের সময় যে রাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ব্যর্থ হয়, সেই রাষ্ট্র কীভাবে এত বড় আয়োজন পরিচালনা করছে?
রাজধানীর বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, বর্তমান সরকার শোকানুষ্ঠানকে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, কিন্তু দেশের বাস্তবতা ভিন্ন। কয়েক মাস আগেও সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ছিল ইরান। সেই ক্ষোভ এখনো পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এদিকে শেষকৃত্য ঘিরে তেহরানজুড়ে হাজার হাজার নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে এবং চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। অনেক বাসিন্দার দাবি, পুরো শহর এখন এক ধরনের আতঙ্ক ও অস্বস্তির পরিবেশে আবদ্ধ।
সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি-কে ঘিরে। তিনি এখনো জনসমক্ষে আসেননি। তার অনুপস্থিতি নিয়ে জল্পনা-কল্পনা বাড়ছে এবং ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্র নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
খামেনির শেষকৃত্য শুধু একটি রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান নয়; এটি বর্তমান ইরানি সরকারের জনপ্রিয়তা, রাজনৈতিক বৈধতা এবং জনসমর্থনেরও বড় পরীক্ষা। সরকার যেখানে কোটি মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে শক্তির বার্তা দিতে চাইছে, সেখানে সমালোচকদের দাবি- এই আয়োজন ইরানের গভীর অর্থনৈতিক সংকট ও জনগণের অসন্তোষ আড়াল করার একটি রাজনৈতিক প্রচেষ্টা।


