নির্বাচনের আগে ঋণনির্ভরতা কমানোর অঙ্গীকার, ক্ষমতায় এসেই বিপুল ঋণ গ্রহণ; অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন বিএনপি সরকারের উপর।
ক্ষমতায় আসার মাত্র সাড়ে চার মাসের মাথায় প্রায় ৬৯ হাজার কোটি টাকার নতুন ঋণ গ্রহণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপি সরকারের অর্থনৈতিক নীতির কার্যকারিতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। নির্বাচনের আগে অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, ঋণনির্ভরতা কমানো এবং জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলছেন দেশের জনগন।
কোনো সরকার দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই এত বড় অঙ্কের ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লে তা রাজস্ব ঘাটতি, বাজেট বাস্তবায়নের দুর্বলতা এবং অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতার ইঙ্গিত বহন করে। তাদের ভাষায়, এটি শুধু একটি সংখ্যার হিসাব নয়; বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার সক্ষমতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
বিএনপি সরকার জনগণকে অর্থনৈতিক স্বস্তির আশ্বাস দিলেও বাজার পরিস্থিতিতে এখনো কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে রয়ে গেছে, ব্যবসা-বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা কাটেনি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাও প্রত্যাশিত মাত্রায় ফিরে আসেনি। এর মধ্যেই বিপুল ঋণ গ্রহণের খবর সরকারের অর্থনৈতিক অবস্থানকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।
রাজনৈতিক ক্ষমতায় যাওয়ার আগে যে দল ঋণনির্ভর অর্থনীতির সমালোচনা করেছে, সেই দলের সরকার যদি অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপক ঋণ গ্রহণ করে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও বাস্তব কর্মকাণ্ডের মধ্যে বৈপরীত্য নিয়ে আলোচনা তৈরি হবে। তারা বলছেন, জনগণ প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে চায়, নতুন করে ঋণের বোঝা নয়।
এদিকে অর্থনৈতিক সংস্কার, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং অপচয় রোধে কার্যকর উদ্যোগের পরিবর্তে সরকার সহজ সমাধান হিসেবে ঋণের পথ বেছে নিয়েছে। তাদের মতে, এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সুদ পরিশোধের চাপ আরও বাড়বে এবং এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ জনগণকেই বহন করতে হবে।
ঋণ গ্রহণ নিজেই কোনো সমস্যা নয়; তবে ঋণ কোথায় ব্যয় হচ্ছে, তা থেকে কতটা অর্থনৈতিক সুফল আসছে এবং ভবিষ্যতে তা পরিশোধের সক্ষমতা কতটা রয়েছে- এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। অন্যথায় অর্থনীতি নিয়ে জনমনে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।
ক্ষমতার মাত্র সাড়ে চার মাসে ৬৯ হাজার কোটি টাকার ঋণ গ্রহণের এই অভিযোগ এখন দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং সরকারের কার্যকারিতা- সবকিছু মিলিয়ে বিএনপি সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে জনগণের আস্থা ধরে রাখা।


