গত ৫ আগস্ট গণভবনের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা জনতাকে তিনটি পৃথক শ্রেণিতে ভাগ করেছেন পুলিশের সাবেক গোয়েন্দা প্রধান মনিরুল ইসলাম। তাঁর দাবি, গণভবনে প্রবেশকারীদের মধ্যে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই গোষ্ঠীর সদস্যরা উগ্রবাদী বা জঙ্গি মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন।

সম্প্রতি ‘অন্তরালের আলাপ’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ ও গণভবনে জনতার প্রবেশের বিষয়টি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এসব কথা বলেন মনিরুল ইসলাম। তাঁর দাবি, সেদিন গণভবনে প্রবেশকারী সবার উদ্দেশ্য এক ছিল না; বরং ভিন্ন ভিন্ন মানসিকতা ও লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ সেখানে প্রবেশ করেছিল।

মনিরুল ইসলামের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রথম গোষ্ঠীর প্রধান লক্ষ্য ছিল হত্যাকাণ্ড ঘটানো। তিনি বলেন, এই গোষ্ঠী শেখ হাসিনাকে হত্যা করে উল্লাস করতে চেয়েছিল। তাঁর ভাষায়, এরা ছিল জঙ্গি বা উগ্রবাদী মানসিকতার লোক, যারা রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটাতে চেয়েছিল।

দ্বিতীয় গোষ্ঠীকে সুযোগসন্ধানী ও লুটপাটকারী হিসেবে উল্লেখ করেন সাবেক এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা। তাঁর মতে, এই শ্রেণির মানুষের ধারণা ছিল গণভবনের ভেতরে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী রয়েছে। ডলার, পাউন্ড, সোনা ও হীরাসহ মূল্যবান সম্পদ পাওয়ার আশায় তারা সেখানে প্রবেশ করেছিল।

আর তৃতীয় গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য ছিল মূলত কৌতূহল। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের প্রবেশের বাইরে থাকা গণভবনের ভেতরের পরিবেশ দেখতে অনেক মানুষ সেখানে গিয়েছিলেন বলে মনে করেন তিনি। অর্থাৎ, এই শ্রেণির মানুষের মধ্যে হত্যাকাণ্ড বা লুটপাটের উদ্দেশ্য ছিল না; বরং ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘদিনের জন্য সংরক্ষিত স্থাপনাটি দেখার আগ্রহ থেকেই তারা সেখানে উপস্থিত হয়েছিল।

মনিরুল ইসলামের এই বক্তব্য ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে গণভবনের মতো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থাপনায় কীভাবে এত বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রবেশের সুযোগ পেলেন এবং সেখানে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠীর পরিকল্পিত তৎপরতা ছিল কি না- এ নিয়ে প্রশ্ন সামনে এসেছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version