দেশে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় সংকট অনেকটাই কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একই সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতকে স্থিতিশীল ও ভালো অবস্থানে নিতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরার সময় এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম প্রায় ২৪ ডলার। ভবিষ্যতে এই দাম বেড়ে ৩০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস সংগ্রহ ও সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, গ্যাস সংকটের পেছনে ব্যবস্থাপনাগত কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল- এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ হলো প্রয়োজনীয় সময়ে পর্যাপ্ত গ্যাস আমদানি করতে না পারা। পরিস্থিতি পুরোপুরি সহনীয় ও স্থিতিশীল পর্যায়ে আনতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে।

শিল্প খাতের গ্যাস বিল পরিশোধের ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এককালীন বিল পরিশোধের পরিবর্তে শিল্প মালিকদের ১২ মাসে কিস্তিতে বিল পরিশোধের সুযোগ দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ওপর চাপ কমাতে কয়লার ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা। বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার বিষয়েও কাজ চলছে। ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে আনা হবে, নাকি এলএনজি আকারে সরবরাহ করা হবে- এ নিয়ে সমীক্ষা চলছে। দ্রুতই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ব্রিফিংয়ে দেশের সার পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, দেশে বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই। তবে সার বিতরণ ব্যবস্থায় কিছু সমস্যা রয়েছে। এ কারণে কৃষকদের কাছে সার পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান চাপ মোকাবিলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির মূল্যবৃদ্ধি এবং আমদানি সক্ষমতার বিষয়টি সামনে রেখে গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতির পূর্ণ স্বাভাবিকতায় পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version