ঘুষ গ্রহণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে চীনের শানসি প্রদেশের সাবেক গভর্নর জিন শিয়াংজুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। তবে বিশেষ ব্যবস্থায় এই মৃত্যুদণ্ড দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি নতুন কোনো গুরুতর অপরাধে জড়িত না হলে সাজা পরবর্তীতে যাবজ্জীবন বা নির্দিষ্ট মেয়াদের কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হতে পারে।

মঙ্গলবার আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, হেনান প্রদেশের শিনইয়াং ইন্টারমিডিয়েট পিপলস কোর্ট জিন শিয়াংজুনকে ১৪৮ মিলিয়ন ইউয়ানের বেশি ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা।

আদালতের রায়ে জিনের আজীবনের রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া এবং তার ব্যক্তিগত সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ এবং ওই অর্থ থেকে পাওয়া সুদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

জুন মাসে জিন শিয়াংজুনের বিরুদ্ধে মামলার প্রকাশ্য শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, তিনি ‘অত্যন্ত বড় অঙ্কের’ ঘুষের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার কর্মকাণ্ড রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থের গুরুতর ক্ষতি করেছে। এসব কারণে তার অপরাধ মৃত্যুদণ্ডের পর্যায়ে পড়ে বলে আদালত উল্লেখ করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি পদ ও নিজের প্রভাব ব্যবহার করে জিন বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং প্রকল্পের ঠিকাদারি কাজে নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ সুবিধা পাইয়ে দেন। এর বিনিময়ে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান উপহার গ্রহণ করেন।

তবে গ্রেপ্তারের পর তদন্তকারীদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন জিন। একই সঙ্গে আগে প্রকাশ্যে না আসা আরও কিছু ঘুষের তথ্য তদন্তকারীদের জানান। আদালতে তিনি দোষ স্বীকার করে অনুশোচনাও প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তার অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের একটি অংশ উদ্ধার হওয়ায় আদালত মৃত্যুদণ্ড দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

চীনের আইনে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখার বিধান রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আসামি নতুন করে গুরুতর অপরাধ না করলে মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর করা যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মেয়াদের কারাদণ্ডেও সাজা রূপান্তরের সুযোগ রয়েছে।

জিন শিয়াংজুন শানসি প্রাদেশিক কমিউনিস্ট পার্টি কমিটির সাবেক উপপ্রধানও ছিলেন। গত বছরের অক্টোবরে গুরুতর দলীয় শৃঙ্খলা ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়না থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং সরকারি পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।

একই দিনে চীনের দুর্নীতিবিরোধী শীর্ষ সংস্থা দেশটির সাবেক জরুরি ব্যবস্থাপনামন্ত্রী ওয়াং শিয়াংসিকেও গুরুতর শৃঙ্খলা ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে কমিউনিস্ট পার্টি থেকে বহিষ্কার এবং সরকারি পদ থেকে অপসারণের কথা জানায়।

তদন্তে তার বিরুদ্ধে দলীয় সাংগঠনিক নিয়ম ভঙ্গ করে কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে অন্যদের অবৈধ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে দেশটিতে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে ঘুষ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অনিয়মের অভিযোগে নিয়মিত তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version