চট্টগ্রামের চন্দনাইশে ঐতিহ্যবাহী বিজয়া রামবিহারে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে এক ভিক্ষুকে জিম্মি করে নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী লুটের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ হাসিমপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা ভিক্ষুকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একটি কক্ষে আটকে রেখে নির্বিঘ্নে লুটপাট চালায় বলে জানিয়েছে বিহার কর্তৃপক্ষ।

বিহার কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের ধর্মীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার প্রস্তুতি হিসেবে শনিবার ভোররাতে নিজ কক্ষের দরজা খোলেন ভিক্ষু জ্ঞান রক্ষিত। এ সময় আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা ৫-৬ জন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত রামদা ও কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর আকস্মিক হামলা চালায়।

অস্ত্রধারীরা তাঁকে জোরপূর্বক খাটে বসিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাঁকে বলে, ‘চুপ করে বসে থাকেন, কথা বললে সমস্যা হবে।’ আতঙ্কিত ভিক্ষুর কাছ থেকে এরপর আলমারির চাবি ছিনিয়ে নেয় তারা।

অভিযোগে বলা হয়েছে, আলমারি খুলে বা ভেঙে দুর্বৃত্তরা প্রায় ৩০ হাজার টাকা নগদ, একটি সাউন্ড বক্সসহ অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। লুটপাট শেষে পালিয়ে যাওয়ার সময় ভিক্ষু জ্ঞান রক্ষিতের কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে দেয় হামলাকারীরা।

পরে তিনি পাশের কক্ষে থাকা দুই শ্রমণকে ডেকে বিষয়টি জানান। তাঁদের সহায়তায় কক্ষ থেকে বের হয়ে স্থানীয়দের কাছে ঘটনার খবর পৌঁছানো হয়।

চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম দিদারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিহার কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

তবে হামলাকারীদের পরিচয়, লুট হওয়া সামগ্রীর পূর্ণাঙ্গ তালিকা এবং ঘটনার পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।

বৌদ্ধবিহারের মতো ধর্মীয় উপাসনালয়ে গভীর রাতে অস্ত্রধারীদের হামলা ও ভিক্ষুকে জিম্মি করে লুটপাটের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এমন ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে- ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপাসনালয় ও সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ কোথায়?

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের দায়িত্বশীলতার ঘাটতি থাকলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version