খুলশীর আবাসিক ভবনে পুলিশের অভিযান; অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহ, চলছে প্রযুক্তিগত ও নথিপত্র যাচাই

চট্টগ্রাম নগরীর খুলশীর একটি আবাসিক ভবন থেকে ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ জন পাকিস্তানি নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া চীন, লাওসসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আটক ব্যক্তিরা অনলাইন প্রতারণা বা সংঘবদ্ধ কোনো সাইবার কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে খুলশী থানাধীন কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার একটি ভবনে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পুলিশ। রাত গভীর পর্যন্ত ভবনটিতে তল্লাশি ও যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অব্যাহত ছিল।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম জানান, এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ মোট ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ জন পাকিস্তানি নাগরিক থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে প্রত্যেকের জাতীয়তা ও পরিচয় নিশ্চিত করতে পাসপোর্ট, ভিসা এবং অন্যান্য নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে।

উদ্ধার হওয়া বিপুলসংখ্যক মোবাইল, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস এখন পুলিশের তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এসব ডিভাইসে অনলাইন যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার কিংবা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের কোনো তথ্য রয়েছে কি না, তা প্রযুক্তিগতভাবে পরীক্ষা করা হবে।

এ জন্য শুক্রবার সকালে আইটি বিশেষজ্ঞ দল এবং ঢাকার বিশেষজ্ঞদের ঘটনাস্থলে আসার কথা রয়েছে। তারা উদ্ধার হওয়া ডিভাইসগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে পুলিশকে সহায়তা করবেন।

পুলিশের ভাষ্য, আটক বিদেশি নাগরিকরা সবাই ওই ভবনে অবস্থান করছিলেন। তারা কী উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে এসেছেন, কতদিন ধরে সেখানে অবস্থান করছেন, কার মাধ্যমে ভবনটি ভাড়া নিয়েছেন এবং সেখানে তাদের কর্মকাণ্ড কী ছিল- এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

বিশেষ করে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিকের একসঙ্গে অবস্থান এবং তাদের কাছ থেকে ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধারের ঘটনায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

ওসি আবদুর রহিম বলেন, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও জাতীয়তা যাচাইয়ের পাশাপাশি তাদের অনলাইন কার্যক্রমও পরীক্ষা করা হবে। তদন্ত ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে অপরাধের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় চট্টগ্রামজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের একসঙ্গে অবস্থান, তাদের মধ্যে ২১ জন পাকিস্তানি নাগরিকের উপস্থিতি এবং ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধারের পেছনে আসলে কী ধরনের কর্মকাণ্ড চলছিল- এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version