কুমিল্লার চান্দিনায় একই রাতে পৃথক তিনটি হিন্দু বাড়িতে হানা দিয়ে নগদ টাকা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। দরজা, গেট ও তালা ভেঙে বাড়িগুলোতে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। একের পর এক তিনটি বাড়িতে একই ধরনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের আওধাতা গ্রাম ও গল্লাই ইউনিয়নের কংগাই গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে। তিনটি হিন্দু বাড়ি থেকে সব মিলিয়ে প্রায় ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও ১১ লাখ টাকা নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
আওধাতা গ্রামের পল্লী চিকিৎসক পরিতোষ পালের বাড়িতে তিনটি তালা ও স্টিলের আলমারি ভেঙে প্রায় দেড় লাখ টাকা ও ৪ ভরি স্বর্ণালংকার নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। একই রাতে পাশের বাড়ির তপন পাল ও সুবল পালের বাড়িতেও একই কায়দায় ঢুকে প্রায় ২২ ভরি স্বর্ণ ও সাড়ে ৪ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, গল্লাই ইউনিয়নের কংগাই গ্রামের একটি বাড়িতে প্রবাসী কাউসারের ঘরের কলাপসিবল গেট ও দরজার তালা ভেঙে প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৫ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
একই রাতে কাছাকাছি এলাকায় পরপর তিনটি বাড়িতে প্রবেশ, তালা ভাঙা এবং মূল্যবান সামগ্রী লুটের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবার হিন্দু সম্প্রদায়ের হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাম্প্রদায়িক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
চান্দিনা থানার ওসি মো. নুরুজ্জামান জানিয়েছেন, ঘটনার সময় বাড়িগুলো ফাঁকা ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এটি পরিকল্পিত চুরি নাকি সংঘবদ্ধ কোনো চক্রের কাজ, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়দের প্রশ্ন- একই রাতে একই কায়দায় তিন হিন্দু বাড়িতে হামলা ও লুটের ঘটনায় কারা জড়িত? ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ দ্রুত তদন্ত করে প্রকাশ করার দাবি উঠেছে।


