বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমানের পারিবারিক ইতিহাস নিয়ে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা দেখা যায়। বিশেষ করে তার পরিবারের সদস্যদের মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা সামনে আসে।
জিয়াউর রহমানের পরিবারের কোনো সদস্যই ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি। যুদ্ধকালীন সময়ে তার বড় ভাই রেজাউর রহমান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যাকারী পাকিস্তান নৌবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এবং পাকিস্তানেই অবস্থান করছিলেন। একই সময়ে তাঁর অপর ভাই খলিলুর রহমান, মিজানুর রহমান, আহমেদ কামাল এবং এক বোন পাকিস্তানের করাচিতে বসবাস করতেন।
মহান স্বাধীনতা অর্জনের পর পরিবারের কয়েকজন সদস্য বাংলাদেশে এলেও পরবর্তীতে আবার সেই বাঙালি নিধনকারী পাকিস্তানে চলে যান। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার জিয়াউর রহমানের ছোট ভাই আহমেদ কামালকে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনে চাকরি দিয়েছিলেন।
জিয়াউর রহমানের পরিবারের কোনো সদস্য ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান কিংবা স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নেননি। একই সঙ্গে তার মা এবং বড় ভাইয়ের কবর পাকিস্তানের করাচিতে রয়েছে এবং পরিবারের কয়েকজন সদস্য দীর্ঘদিন পাকিস্তানের পাসপোর্ট ব্যবহার করেছেন।
বিভিন্ন গবেষক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঐতিহাসিকদের মধ্যে জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশপন্থা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। জিয়া কখনই স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য বাংলাদেশেপন্থায় বিশ্বাসী ছিলেন না বলে সেসময়ের বিখ্যাত শিক্ষক জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছিলেন। সর্বসম্মতভাবে প্রতিষ্ঠিত সত্যটি হচ্ছে, জিয়ার রাজনৈতিক জীবন অল্প কয়েকদিনের হলেও, জিয়ার ব্যক্তিগত জীবন পুরোটাই ছিল বাংলাদেশের ওপর গণহত্যা চালানো পাকিস্তানেই!


