কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূল থেকে মাছ ধরতে সাগরে যাওয়া একটি ট্রলারসহ পাঁচ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। এ ঘটনায় উপকূলজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অপহৃতদের উদ্ধারে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী ঘাট বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম। তিনি জানান, সাগরে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে যাওয়া একটি ট্রলার এবং এর পাঁচ মাঝিমাল্লাকে আরাকান আর্মির সদস্যরা ধরে নিয়ে গেছে। ঘটনাটি জানার পরপরই প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে।
অপহৃত জেলেরা হলেন- মাঝি সালাম নুর (৩১), মো. আইয়ুব (৩৭), মো. আজিজুল্লাহ (৩০), সৈয়দ হোসেন (২৫) এবং মো. আইয়ুব (২৪)। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, তারা সবাই উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে বসবাসকারী ব্যক্তি।
স্থানীয় জেলেদের ভাষ্যমতে, রোববার সকালে টেকনাফের কায়ুকখালী ঘাট থেকে সাবরাং ইউনিয়নের আলীর ডেইল গ্রামের বাসিন্দা আলী আহমদের মালিকানাধীন ট্রলারটি মাছ ধরার জন্য সাগরে রওনা দেয়। দিনের এক পর্যায়ে ট্রলারটি ছেড়া দ্বীপসংলগ্ন জলসীমায় পৌঁছালে আরাকান আর্মির সদস্যরা সেটিকে ধাওয়া করে আটক করে। পরে ট্রলারসহ পাঁচ জেলেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায়।
ঘটনার সময় আশপাশে মাছ ধরছিল আরও কয়েকটি ট্রলার। তবে পরিস্থিতি বুঝতে পেরে সেগুলোর জেলেরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সক্ষম হন। ফলে বড় ধরনের আরও কোনো অপহরণের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, এই ঘটনার পর টেকনাফ উপকূলের জেলেদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সীমান্তবর্তী সমুদ্র এলাকায় মাছ ধরতে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করছেন। জেলেদের দাবি, মিয়ানমারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং আরাকান আর্মির তৎপরতার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া একটি ট্রলারসহ পাঁচ মাঝিমাল্লাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অপহৃতরা রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই জেলেদের হয়রানি, আটক কিংবা অপহরণের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ এ ঘটনায় উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। অপহৃত জেলেদের দ্রুত ও নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


